দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ১০ জানুয়ারি ২০২৬: বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ। ঘটনা ঘিরে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন ৪ জন। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটির হাড়ালে একটি বাজি কারখানায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের একটি ইঞ্জিন। আহতদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে। স্থানীয়দের দাবী, পরপর তিন থেকে চারটি বিস্ফোরণ হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটির হাড়ালে বাজি কারখানায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। প্রায় ১২টা নাগাদ হঠাৎই সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রচণ্ড শব্দ শুনে স্থানীয়রা ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বারুইপুর পুলিশ জেলা পুলিশ। আহতদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় বারুইপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। ঘটনাস্থলে দমকলের একটি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা সঞ্জীব মণ্ডল জানান, এটি বৈধ বাজি তৈরি করার কারখানা। প্রতিদিনের মতোই এখানে শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন। হঠাৎ এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভেঙে পড়ে বাড়ির পাঁচিল। এই ঘটনায় চারজন আহত হয়। আহতদের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটেছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ এবং দমকলের আধিকারিকেরা।
এ বিষয়ে বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রূপান্তর সেনগুপ্ত বলেন, 'শনিবার সকালে চম্পাহাটি হাড়াল এলাকায় একটি বাজি তৈরির কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনার খবর পাই আমরা। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছেছে এবং আহতদের চিকিৎসা করানোর জন্য চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কী কারণে বিস্ফোরণ তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।'
সম্পূর্ণ বিষয় নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বারুইপুর পুলিশ জেলার পুলিশ। এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চম্পাহাটির বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটে। বাজি ব্যবসায়ী পিন্টু মণ্ডলের বাড়িতে ঘটে বিস্ফোরণ। বাড়িতে মজুদ বাজি থেকে ঘটে এই ঘটনা। বিস্ফোরণের ঘটনায় বাড়ি ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। পাশাপাশি আগুনও লেগে যায়। এর আগে ২০২৩ সালে দত্তপুকুরের নীলগঞ্জে বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাণ যায় ৯ জনের।

No comments:
Post a Comment