দেগঙ্গা: প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তার উপরে টোটো থেকে টেনে হিঁচড়ে তরুণীকে এলোপাতাড়ি মরধর, বুট লাথি। এমনকি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে প্রাণে মারার চেষ্টার অভিযোগ ননদ ও ননদাইয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দেগঙ্গা থানার কার্তিকপুর এলাকায়। আক্রান্ত তরুণীর নাম সাবিনা খাতুন, বয়স ২৭ বছর।
সাবিনার দাবী, তাঁর স্বামী বছর দুই আগে এক মহিলার সাথে অনত্র্য গিয়ে বসবাস করেন। তাঁকে এবং তাঁর পাঁচ বছরের শিশুর কোনও খরচ স্বামী বা শ্বশুর বাড়ির কেউ দেন না। তিনি নিজে উপার্জন করে ছেলের পড়াশোনা এবং তাঁদের দুজনের জীবন যাপন করেন। স্বামী চলে যাওয়ার পর থেকে শ্বশুর-শাশুড়ি তার ওপর অত্যাচার করে, মারধর করে।
জানা যায়, অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে এদিন সাবিনা ছেলেকে নিয়ে একটি টোটো করে থানায় লিখিত অভিযোগ করতে আসছিলেন। খবর পেয়ে ননদ ও ননদাই পথের মাঝে প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তার মাঝে তাঁদের গাড়ি আটকে তাঁর ছেলেকে মারধর করে এবং তাঁকে টোটো থেকে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর, বুট দিয়ে লাথি এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে প্রাণে মারার চেষ্টা করে। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে বিশ্বনাথপুর হাসপাতালে চিকিৎসা করায়। শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে বারাসত জেলা হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসক।ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
আক্রান্ত সাবিনা খাতুন বলেন, "শ্বশুর-শাশুড়ি আমাকে মেরেছে, আমি থানায় জানিয়ে বাপের বাড়ি চলে যাব বলে বেরিয়ে এসেছি। তখন ওরা টোটো থেকে নামিয়ে মারধর করেছে। বুট জুতো দিয়ে লাথি মেরেছে ননদাই। ওড়নার ফাঁস দিয়েছে ননদ।" তিনি জানান, তাঁর স্বামী অন্য এক মেয়েকে নিয়ে দু'বছর থেকে বাইরে, তাঁর কোনও খরচ দেন না। এসবের প্রতিবাদ করাতেই এই মারধর।
আক্রান্তের বাবা বলেন, "মেয়ের স্বামী বাড়ি থাকে না। মেয়ের নামে চুরির দোষ দিয়ে ঝামেলা করে, বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। সেখান থেকে টোটো করে আসার সময় মেয়ের ননদাই এসে তাঁকে মারধর করে, মেয়ের ননদ ওড়না পেঁচিয়ে মারার চেষ্টা করেছে। টোটোওয়ালাকেও মেরেছে।" তিনি জানান, তাঁর মেয়ের ননদাই চাঁপাতলার উপপ্রধানের ভাই এবং পুলিশ বিষয়টি জানে।
প্রতিবেশী বাপ্পা মণ্ডলের কথায়, "মহিলার স্বামী অন্যত্র একটা মেয়ের সঙ্গে থাকে, হয়তো বিয়েও করেছেন। এদিকে বাড়ির বৌকে অত্যাচার করা হয়, মারধর করা হয়। শ্বশুর শাশুড়ি মিলে এদিনও মারধর করায় উনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। কিছুটা আসার পর ওনার ননদ-ননদাই এসে টোটো থেকে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে মারধর করে, একেবারে রক্তারক্তি কাণ্ড।"
এদিকে এই দেগঙ্গা থানায় ননদ, ননদাই সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দেগঙ্গা থানার পুলিশ।

No comments:
Post a Comment