প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৯ মার্চ ২০২৬, ২১:২৫:০১ : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করে বলেছেন, ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ্যসচিব ও পুলিশ মহাপরিচালকসহ ৫০-এর বেশি শীর্ষ আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়টি নিয়ে এবার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি অভিযোগ করেন, অসাধু উপায়ে ভোট জিততে শাসক দল নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের হাতিয়ার বানিয়েছে। তাঁর দাবি, আজ যা পশ্চিমবঙ্গে হচ্ছে, একই ঘটনা দিল্লির ভোটেও ঘটেছিল—ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া, পুলিশ-প্রশাসনের পক্ষপাত এবং পুরো প্রশাসনকে একপক্ষের জয়ে কাজে লাগানো। এতে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে রয়েছে তাঁর দল।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের এই আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং পক্ষপাতদুষ্ট। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপগুলি পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক কাঠামোকে দুর্বল করে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে তিনি জানান, বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, তবুও কমিশনের আচরণে নিরপেক্ষতার অভাব স্পষ্ট।
তিনি আরও বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পরিপূরক ভোটার তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি, গোপনচর সংস্থা, বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনী এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার শীর্ষ আধিকারিকদের বেছে বেছে সরিয়ে অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শেষে তিনি প্রশ্ন তোলেন, শাসক দল এতটা আতঙ্কিত কেন? কেন বারবার পশ্চিমবঙ্গ এবং এখানকার নাগরিকদের নিশানা করা হচ্ছে? স্বাধীনতার বহু বছর পরও মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে—এতে কী লাভ, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

No comments:
Post a Comment