প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১৯ মার্চ ২০২৬, ২১:৫০:০১ : আমেরিকা ৫০টি দেশের জন্য ভিসা জামানত বাধ্যতামূলক করেছে, যা ২ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বুধবার (১৮ মার্চ ২০২৬) জানিয়েছে, নাগরিকদের ব্যবসায়িক (বি১) এবং পর্যটক (বি২) ভিসা নেওয়ার আগে ১৫ হাজার ডলার সমমূল্যের অর্থ জামানত হিসেবে জমা দিতে হবে। যারা ভিসার নিয়ম মেনে নির্ধারিত সময়ে আমেরিকা থেকে ফিরে আসবেন বা সফরে না গেলে, তাদের এই টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিয়েছে ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে অবৈধভাবে থেকে যাওয়া কমানোর জন্য। মার্কিন কর্তৃপক্ষের মতে, এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় এক হাজার বিদেশিকে ভিসা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৯৭ শতাংশ মানুষ সময়মতো নিজ দেশে ফিরে গেছেন। কিন্তু আগের সরকারের শেষ বছরে এই তালিকাভুক্ত ৫০টি দেশের ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ নির্ধারিত সময়ের পরে আমেরিকায় অবস্থান করেছিলেন।
এই নিয়মে ১২টি নতুন দেশ যুক্ত হচ্ছে—কাম্বোডিয়া, ইথিওপিয়া, জর্জিয়া, গ্রেনাডা, লেসোথো, মরিশাস, মঙ্গোলিয়া, মোজাম্বিক, নিকারাগুয়া, পাপুয়া নিউ গিনি, সেশেলস ও তিউনিসিয়া। এগুলো আগে থেকেই তালিকাভুক্ত ৩৮টি দেশের সঙ্গে যুক্ত হবে, যেমন আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, তানজানিয়া, উগান্ডা, জাম্বিয়া, জিম্বাবোয়ে ইত্যাদি। এই তালিকায় ভারত ও পাকিস্তানের নাম নেই।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ‘অভিবাসন ঝুঁকি’ বিবেচনা করে আরও দেশ এই তালিকায় যুক্ত হতে পারে। অর্থাৎ, ভিসার নিয়ম ভঙ্গ বা সময়সীমা লঙ্ঘনের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে নতুন দেশ নির্ধারণ করা হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবী, এই ব্যবস্থার ফলে আমেরিকারও আর্থিক লাভ হচ্ছে। অবৈধভাবে অবস্থানকারী কাউকে দেশ থেকে বের করতে গড়ে প্রায় ১৮ হাজার ডলার খরচ হয়। এই নিয়ম চালুর ফলে প্রতিবছর প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হচ্ছে।
এই ভিসা জামানত নিয়ম মূলত স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক ও পর্যটক ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এটি একটি আর্থিক নিশ্চয়তা হিসেবে কাজ করে, যাতে ভিসাধারীরা নিয়ম মেনে চলেন এবং সময়মতো দেশে ফিরে আসেন।

No comments:
Post a Comment