নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর: ভোট বড় বালাই। আর তো ভোট চাইতে গিয়ে নানান ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যাচ্ছে শাসক-বিরোধী প্রার্থীদের। কেউ প্রচারে বেরিয়ে রুটি বেলে দিচ্ছেন তো কেউ রান্না করে দিচ্ছেন। আবার শিলপাটায় মশলাও বেঁটে দিচ্ছেন কেউ। এমনকি ক্ষৌরকারের ভূমিকাতেও দেখা বিজেপি প্রার্থীকে।
দুবরাজপুরের পর এবার নারায়নগড়, ভোট চাইতে গিয়ে সেলুন দোকানে ঢুকে দাড়ি কামিয়ে দিলেন সেখানে উপস্থিত গ্ৰাহকের। নারায়ণগড়ের বিজেপি প্রার্থী রামপ্রসাদ গিরি, সোমবার সকাল থেকেই খুরশি কালীমাতার মন্দিরে পুজো দিয়ে তাঁর প্রচার শুরু করেন। প্রচারের মাঝেই বিরল দৃশ্য, হঠাৎই সেলুন দোকানে ঢুকে যান তিনি। তারপর নিজের হাতে দাড়ি কামিয়ে দেন সেখানে বসে থাকা খদ্দেরের।
পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, "সাড়া প্রচুর আছে। ২০২১ সালে এই অঞ্চলে আমি ১৮০০ ভোটে পিছিয়ে ছিলাম। কিন্তু এবারে আমি এই অঞ্চল নিশ্চয়ই জিতব। আমাদের কর্মী-কার্যকর্তারা ভালো কাজ করছেন। মানুষের দরজায়-দরজায় পৌঁছেছেন। প্রচুর সাড়া আছে। আমরা এটা জিতে দেখাব।"
ভোট চাইতে বেরিয়ে দাড়ি কামানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এটা প্রচারে অঙ্গ। স্বাভাবিক ভাবে মানুষের সঙ্গে মিশতে তো হবেই।' তিনি বলেন, আমি হেরে যাওয়ার পরেও সাড়ে পাঁচ বছর আজ মানুষের পাশে আছি, জেতার পরে তো থাকবই।' শাসক দলকে খোঁচা দিয়ে তাঁর বক্তব্য, 'তৃণমূলের মত জিতে যাওয়ার পর বছরে একবার ভোট চাইতে মানুষের কাছে যাই না। মানুষের সেবা করা, মানুষের পাশে থাকা বিজেপির কালচার।' তৃণমূলের প্রার্থী বদল নিয়েও এদিন সুর চড়ান বিজেপি প্রার্থী। তিনি জনসাধারণকে সাবধানী হওয়ার বার্তা দেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে বীরভূমের দুবরাজপুরের বিজেপি প্রার্থী অনুপ সাহাকে দেখা যায় প্রচারে বেরিয়ে ভোটারের দাড়ি কামিয়ে দিতে। আর এই নিয়ে সমাজমাধ্যমে ব্যঙ্গর ঝড় উঠেছিল। যদিও বিজেপি প্রার্থী বলেছিলেন, প্রচারে বেরিয়েছিলাম। একজন মানুষের দাঁড়ি কাটতে সমস্যা হচ্ছিল। সহযোগিতা করেছি শুধু। মানুষের ছোট-ছোট বিষয়ে সহযোগিতা করা জনপ্রতিনিধির কাজ। তাঁর দাবী, "এই বিধানসভায় মানুষ পদ্মফুলকে বোঝে। মানুষের পাশে থাকি, সঙ্গে থাকি। এবারেও জিতব।"

No comments:
Post a Comment