নিজস্ব সংবাদদাতা, বরানগর, ২১ মার্চ ২০২৬: সামনেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বরানগরের গোপাল লাল ঠাকুর রোড। পরিস্থিতি সামালাতে নামানো হয়েছে র্যাফ, প্রচুর পুলিশবাহিনী। তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষের এদিন এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। শনি সন্ধ্যায় পোস্টার লাগানো নিয়ে শুরু হয় দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ঝামেলা। বিবাদ গড়ায় হাতাহাতিতে। মুহুর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।
জানা গিয়েছে, বরানগরের ওই এলাকার নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে তৈরি একটি গেটে হোর্ডিং লাগানো হয়েছিল বিজেপির তরফে। অভিযোগ, সেই হোর্ডিং খুলে দেয় তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। এরপরই ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। মুহূর্তে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ব্যানারের বিদায়ী বিধায়ক তথা বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাঁর অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রচার করছিলেন। বিজেপি বহিরাগতদের নিয়ে এসে ইচ্ছে করে অশান্তি তৈরি করেছে। এদিন সায়ন্তিকা ঘটনাস্থলে এলে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন; 'সায়ন্তিকা গো ব্যাক, চোর এমএলএ গো ব্যাক'। বরানগরের এবারের বিজেপির প্রার্থী সজল ঘোষকেও মাইক হাতে স্লোগান দিতে দেখা যায়। পাল্টা স্লোগান দিতে দেখা যায় সায়ন্তিকা-সহ অন্যান্য তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদেরও।
সায়ন্তিকার অভিযোগ, বিজেপির যারা বরানগরে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছে তারা কেউ সেখানকার লোক নয়। তাদের বাইরে থেকে আনা হয়েছে । বরানগরকে অশান্ত করার জবাব বরানগরবাসী গণতান্ত্রিক ভাবে দেবে। বিজেপি ভয় পেয়েছে যে তারা হেরে যাবে। তাই জন্য এভাবে মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। মিথ্যে কথা বলছে বিজেপি, বলেন তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা।
'তিনি আরও বলেন, বিজেপি একটা মিথ্যেবাদীর দল। সজল ঘোষ মিথ্যে কথা বলছেন। মানুষ জবাব দেবে। বাইরে থেকে লোক এনে আমাদের প্রতিবন্ধী কর্মীকে মেরেছে। মহিলাকর্মীদের হাতে মেরেছে। শাড়ি টেনে ছিঁড়ে দিয়েছে। এই বিজেপি নারী বিদ্বেষী। আমরা চাই সবাই শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রচার করুক। একজন প্রতিবন্ধীর গায়ে হাত দিয়েছে, দেখি নির্বাচন কমিশন পদক্ষেপ করে কিনা।' তবে আগে পুলিশকে এই বিষয়ে বলবেন, জানিয়েছেন সায়ন্তিকা।
অন্যদিকে বরানগরের বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ বলেন, 'আমাদের হোর্ডিং গত ২-৩ দিন ধরে এখানে ছিল। আজ ওরা এটা খুলে ওদের হোর্ডিং লাগিয়ে দিয়েছে। ওই যে সায়ন্তিকার কোম্পানি.....আমাদের সব ঝাণ্ডা তুলে নিয়ে চলে গেছে। বাংলার মানুষ এসব মিথ্যে কথা বোঝে। মোবাইলে সব ধরা আছে।' 'জনগণকে যেভাবে ক্ষেপাচ্ছে, জনগণ জবাব দিলে সেটা আমাদের হাতে নেই', মন্তব্য সজল ঘোষের।
প্রসঙ্গত, এর আগেও বরানগরে উপনির্বাচনে সায়ন্তিকা-সজল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তৃণমূলের তারকা প্রার্থীই সেই সময় জয়ের হাসি হাসেন। এবারে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের মুকুট কার মাথায় ওঠে, সেটাই দেখার।

No comments:
Post a Comment