প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৯:৪৫:০১ : পাকিস্তানের জাতীয় বিমান সংস্থা বর্তমানে তার ইতিহাসের গভীরতম আর্থিক সংকটের সম্মুখীন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে যে বিমান সংস্থাটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, যারা কাজ, ব্যবসা বা প্রিয়জনদের সাথে দেখা করার জন্য বিমানে যাতায়াত করেন।
গত কয়েক সপ্তাহে, বিমান জ্বালানির (জেট ফুয়েল) দামে নাটকীয় বৃদ্ধি দেখা গেছে। এটি কোনো সামান্য বৃদ্ধি নয়। বরং, এটি প্রায় ১৫০ শতাংশের এক বিশাল উল্লম্ফন। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই বিশাল মূল্যবৃদ্ধি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি এবং নীরবে কার্যকর করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জেট ফুয়েলের (জেপি-১) দাম, যা ১ মার্চ প্রতি লিটার ১৯০ রুপি ছিল, তা ২১ মার্চের মধ্যে প্রতি লিটার ৪৭২ রুপিতে পৌঁছেছে। শুধুমাত্র ২১ মার্চ থেকেই দাম ৮৪ রুপি (বা ২১.৬৫ শতাংশ) বাড়ানো হয়েছে। যখন একটি বিমান চালানোর খরচ এত বেড়ে যায়, তখন বিমান সংস্থার পক্ষে এই ক্ষতির বোঝা সাধারণ যাত্রীদের উপর চাপিয়ে দেওয়াটাই স্বাভাবিক। এর ফলে বিমান ভ্রমণের খরচ সাধারণ মানুষের বাজেটের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
এই প্রচণ্ড আর্থিক চাপের মধ্যে পিআইএ কনসোর্টিয়ামের চেয়ারম্যান আরিফ হাবিব একটি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। রবিবার সংবাদ চ্যানেল বোল নিউজের সাথে শেয়ার করা একটি সাক্ষাৎকারের ক্লিপে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, যদি জেট ফুয়েলের দাম আকাশছোঁয়া হতে থাকে, তবে বিমান সংস্থাটির পক্ষে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়বে।
হাবিবের কথায়, পরিস্থিতি যদি এভাবেই চলতে থাকে, তবে পিআইএ "বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে"। যেকোনো দেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান সংস্থার প্রধানের কাছ থেকে এমন একটি বিবৃতি ইঙ্গিত দেয় যে সংকট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এটি সেই সমস্ত যাত্রীদের জন্য একটি বড় ধাক্কা, যাদের ভ্রমণ এই সংস্থার উপর নির্ভরশীল।
জ্বালানির দামে আকস্মিক এই উল্লম্ফনের প্রধান কারণ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ। এই আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খলকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। বিশ্বব্যাপী উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে, যার ফলে বিমান জ্বালানির সরবরাহে ঘন ঘন বিঘ্ন ঘটছে।

No comments:
Post a Comment