প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২২ মার্চ ২০২৬, ১৬:৪৫:০১ : ইরানের সংবাদ মাধ্যম দাবী করেছে যে হরমুজ দ্বীপের কাছে একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। খবর অনুযায়ী, এই বিমানটি শত্রুপক্ষের ছিল এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আকাশে উড়ছিল। ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাটি থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করে ধ্বংস করে। সরকারি চ্যানেল প্রেস টিভিও এই ঘটনার কথা জানিয়েছে এবং একটি ভিডিও দেখিয়েছে, যেখানে বিমানটি ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
তবে এই দাবীর সত্যতা এখনো যুক্তরাষ্ট্র বা ইজরায়েলের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের বড় ধরনের ক্ষতির কথা বলা হচ্ছে। মাত্র ২১ দিনের মধ্যে দুই দেশের ২৮টিরও বেশি বিমান এবং বহু দামী সামরিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবী করা হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তারা অন্তত ১৭টি উড়োজাহাজ ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৬টি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১২টি মানববিহীন আক্রমণ ড্রোন রয়েছে। একটি ড্রোনের মূল্য প্রায় ৫৬.৫ মিলিয়ন ডলার, ফলে শুধু ড্রোনেই ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া কুয়েতে ভুলবশত নিজেদের গুলিতে ৩টি এফ-১৫ স্ট্রাইক ঈগল ধ্বংস হয়েছে। ১২ মার্চ ইরাকের আকাশে একটি কেসি-১৩৫ জ্বালানি বহনকারী বিমান ভেঙে পড়ে, এতে ৬ জনের মৃত্যু হয় এবং আরেকটি একই ধরনের বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
১৯ মার্চ ইরান দাবী করে যে তারা একটি এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী জানায়, বিমানটিকে জরুরি অবতরণ করতে হয়েছিল, তবে কারণ স্পষ্ট করেনি। যদি এই দাবী সত্যি হয়, তাহলে এত আধুনিক যুদ্ধবিমানকে এভাবে লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনা প্রথম হবে। ইজরায়েলেরও এক ডজনের বেশি ড্রোন ইরানের আকাশে ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে দুই দেশের ২৮টি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ও রাডারেও হামলা
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও লক্ষ্য করেছে। তারা থাড ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত এএন/টিপিওয়াই-২ রাডারে হামলা চালিয়েছে, যার মূল্য ৩০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। জর্ডন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবে এই ধরনের রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে থাকা ১.১ বিলিয়ন ডলারের এএন/এফপিএস-১৩২ রাডারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড যুদ্ধজাহাজে আগুন লেগে যায়, যার ফলে কিছু সময়ের জন্য সেটি অচল হয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ৩০ ঘন্টা সময় লাগে এবং এখন তদন্ত চলছে। যুদ্ধের খরচও দ্রুত বাড়ছে। প্রথম ৬ দিনেই যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১১ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মূল্য প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন ডলার এবং এখন পর্যন্ত ৩০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment