প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ৩০ মার্চ ২০২৬, ২১:৩০:০১ :মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে অত্যন্ত কঠোর ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন, যার ফলে ইতিমধ্যেই চলা বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে সতর্ক করে বলেছেন, যদি হরমুজ অবিলম্বে বাণিজ্যের জন্য খুলে না দেওয়া হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাতে পারে।
নিজের বক্তব্যে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে “নতুন ও বুদ্ধিমান সরকার”-এর সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যদি কোনো সমঝোতা না হয় এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো—যেমন বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তেলক্ষেত্র এবং Kharg Island—কে লক্ষ্য করে আঘাত হানতে পারে।
ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি
ট্রাম্প এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে অতীতে ইরান-সংক্রান্ত ঘটনায় নিহত মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর “প্রতিশোধ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এই বক্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা চরমে রয়েছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে, বিশেষ করে তেল ও গ্যাস বাণিজ্যে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, তাহলে এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি, তেলের দাম এবং ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর গুরুতরভাবে পড়তে পারে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। এই তথ্য জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Esmail Baghaei। তিনি বলেন, তেহরানের কাছে দেওয়া প্রস্তাবে এমন কিছু বিষয় ছিল, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও জানান, যুদ্ধের মধ্যেই মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কাছ থেকে বার্তা পাওয়া গেছে, যা থেকে স্পষ্ট যে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করার আগ্রহ দেখাচ্ছে। এসব দেশের মধ্যে পাকিস্তানও রয়েছে। তবে ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার দাবিকে অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, শুধুমাত্র তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমেই বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছিলেন যে ইরান ১৫ দফা প্রস্তাবের কিছু বিষয় মেনে নিয়েছে, কিন্তু এখন ইরান সেই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছে।

No comments:
Post a Comment