প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৮:০১ : ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকার সংঘাতের কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে। এর মধ্যেই সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি বড় জাহাজ নিরাপদে মুম্বাইয়ে পৌঁছেছে। জাহাজটি হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ভারতে এসেছে। এই সমুদ্রপথ নিয়েও বর্তমানে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জাহাজটির অধিনায়ক ছিলেন একজন ভারতীয় এবং জাহাজটিতে লাইবেরিয়ার পতাকা ছিল। বিপজ্জনক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাত্রা করে এই তেলবাহী জাহাজটি ভারতে পৌঁছায়। লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘শেনলং’ প্রায় এক লক্ষ পঁয়ত্রিশ হাজার তিনশো পঁয়ত্রিশ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে সৌদি আরব থেকে রওনা দিয়েছিল।
এই সময় মধ্যপ্রাচ্যে কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অনেক জাহাজের উপর হামলার খবর এসেছে। সমুদ্রপথে ঝুঁকি বেড়ে গেছে এবং তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই জাহাজের নিরাপদে ভারতে পৌঁছানোকে দেশের জ্বালানি সরবরাহের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের কারণে অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে তেলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে জ্বালানির কোনও ঘাটতি নেই। তেলবাহী জাহাজ যেসব সমুদ্রপথ দিয়ে যায়, সেখানেও হামলার ঘটনা ঘটছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি জাহাজ আক্রমণের শিকার হয়েছে। এই জাহাজটি সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে অপরিশোধিত তেল বোঝাই করে হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ভারতে পৌঁছেছে।
আরও একটি তেলবাহী জাহাজ ভারতের দিকে আসছে। এর অর্থ, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতে তেলের সরবরাহ চালু রাখার চেষ্টা চলছে। মুম্বাই বন্দরে পৌঁছানোর পর জাহাজটি নোঙর করেছে। সেখান থেকে অপরিশোধিত তেল পূর্ব মুম্বাইয়ের মাহুল এলাকার শোধনাগারগুলোতে পাঠানো হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে যেতে কেউই স্বচ্ছন্দ নয়। তাই নিরাপত্তার কারণে সংবেদনশীল সমুদ্র অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজটি সাময়িকভাবে নিজের অবস্থান জানানোর ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল। এর মাধ্যমে সাধারণত জাহাজের অবস্থান জানা যায়। পরে ৯ মার্চ জাহাজটি আবার সেই ব্যবস্থা চালু করে এবং এরপরই নিরাপদে ভারতে পৌঁছে যায়।

No comments:
Post a Comment