প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ১৩ মার্চ ২০২৬, ১০:০০:০১ : রুটি প্রায় প্রত্যেক মানুষের খাবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেকের কাছে রুটি ছাড়া যেন পেটই ভরে না। রুটিকে আমরা বিভিন্ন নামেও চিনি—যেমন ফুলকা, চাপাটি—তবে বেশিরভাগ মানুষ এটিকে রুটি বলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। রুটি সবজি বা ডালের সঙ্গে খাওয়া যায় এবং এটি শরীরের জন্যও উপকারী। কিন্তু কখনও কি ভেবেছেন, রুটি সব সময় গোল আকৃতিতেই কেন বানানো হয়? চৌকো বা অন্য আকারে কেন নয়? অথচ পরোটা অনেক সময় ত্রিভুজ আকৃতির হয়। তাহলে রুটির আকার গোল কেন এবং এর নামই বা রুটি হলো কেন? যদি কখনও এই প্রশ্ন আপনার মনে এসে থাকে, তাহলে জেনে নিন রুটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি মজার ইতিহাস।
রুটিকে গোল করে বানানোর পেছনে সহজ একটি কারণ আছে। রুটি বানানোর জন্য যে আটা থেকে ছোট বল বা লেচি তৈরি করা হয়, তার আকার স্বাভাবিকভাবেই গোল হয়। সেই কারণে সেটিকে গোল করেই বেলা সবচেয়ে সহজ। অন্যদিকে পরোটা বানানোর সময় অনেক ক্ষেত্রে লেচিকে ভাঁজ করে ত্রিভুজ আকার দেওয়া হয়, তাই সেটি ত্রিভুজ হয়।
আরও একটি কারণ হলো—গোল রুটি তাওয়ায় সমানভাবে সেঁকা যায়। এর প্রায় প্রতিটি অংশের পুরুত্ব কাছাকাছি হওয়ায় সব দিক থেকেই রুটি ভালোভাবে সেঁকে যায়। গোল হওয়ায় রুটিকে উল্টে দেওয়াও সহজ হয় এবং তাওয়ার উপর সেটি ঠিকভাবে ঘুরতেও পারে। ভারতে বহু প্রজন্ম ধরে রুটি গোল আকারেই তৈরি করা হয়ে আসছে। ধীরে ধীরে এটি এক ধরনের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে এবং মানুষ সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করে আসছে।
রুটি বানানোর প্রক্রিয়াও খুব সহজ ও ঐতিহ্যবাহী। প্রথমে গমের আটার সঙ্গে জল মিশিয়ে আটা মাখা হয়। এরপর সেই আটা থেকে ছোট ছোট লেচি তৈরি করা হয়। লেচিকে বেলনের সাহায্যে গোল করে বেলে তাওয়ার উপর সেঁকা হয়। তাওয়ায় সেঁকার পরে অনেক সময় রুটিকে সরাসরি আগুনের উপর ধরেও ফুলিয়ে নেওয়া হয়, এতে রুটি নরম ও সুস্বাদু হয়।
‘রুটি’ শব্দটির উৎস সংস্কৃত শব্দ ‘রোটিকা’ থেকে এসেছে বলে মনে করা হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে রুটি ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। ভারতে একে চাপাটি, ফুলকা বা আরও নানা নামে ডাকা হয়। বাংলায় একে রুটি বলা হয়। মালদ্বীপে এটিকে রোশি বলা হয়, আর পূর্ব আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে একে চাপো নামে ডাকা হয়।
চাপাটি শব্দের অর্থ
রুটিকে অনেক সময় ‘চাপাটি’ও বলা হয়। ‘চাপাটি’ শব্দটি হিন্দি ‘চপাট’ শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ হাত দিয়ে চাপড়ে বা চাপ দিয়ে পাতলা করা। অর্থাৎ আটাকে চাপড়ে বা চাপ দিয়ে পাতলা করে যে রুটি তৈরি করা হয়, তাকে চাপাটি বলা হয়।
মুঘল যুগে তন্দুরে তৈরি রুটিও খুব জনপ্রিয় ছিল। রাজপরিবারে তন্দুরি রুটির ধোঁয়াটে স্বাদ এবং আলাদা গন্ধের জন্য এটি বিশেষভাবে পছন্দ করা হতো।

No comments:
Post a Comment