প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১৯ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৫:০১ : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ক্রমেই আরও তীব্র হয়ে উঠছে। ইরান একের পর এক পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এখন প্রতিবেশী দেশগুলিতেও আঘাত হানছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত বৃহস্পতিবার সকালে ইরানের পক্ষ থেকে হাবশান গ্যাস কেন্দ্র ও বাব তেলক্ষেত্রে বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে বিপজ্জনক পরিস্থিতির বৃদ্ধি বলে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নিজেদের হামলা আরও জোরদার করছে।
আবুধাবিতে অবস্থিত হাবশান গ্যাস কেন্দ্রের ওপর হামলার পর সেখানকার গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এর আগে ইজরায়েল যখন পারস্য উপসাগরে ইরানের দক্ষিণ পার্স প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালায়, তখন তার জবাবে ইরান কাতারের একটি গ্যাস স্থাপনায় আঘাত হানে।
ইজরায়েল তাদের অভিযান চালিয়ে যেতে গিয়ে ইরানের শীর্ষ গোয়েন্দা মন্ত্রীকে হত্যা করেছে বলে খবর। পাশাপাশি একটি অফশোর প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রেও হামলা চালানো হয়েছে। ফলে ইরানের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ জ্বালানি খাত এখন বড় সংকটে পড়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সতর্ক করেছেন যে, এর “অপ্রত্যাশিত ভয়াবহ পরিণতি” হতে পারে এবং তা গোটা বিশ্বকে প্রভাবিত করতে পারে। এরপর পাল্টা আক্রমণে ইরান কাতারের একটি বড় গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালায় এবং পারস্য উপসাগরের অন্যান্য দেশগুলির জ্বালানি ক্ষেত্রেও আঘাত হানতে থাকে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করছে, কারণ এই পথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবাহিত হয়।
এই যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৮ মার্কিন ডলারের বেশি হয়ে গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়ছে।
ইরানের গোয়েন্দা প্রধান ইসমাইল খাতিব নিহত হওয়ার পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাট্জ আরও বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর আগের দিন ইসরায়েল ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিক আলি লারিজানি এবং বিপ্লবী গার্ডের বাসিজ বাহিনীর প্রধান গুলাম রেজা সোলেমানিকেও হত্যা করেছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ ইরান ইসরায়েলের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে জবাব দেয়। ইসরায়েলের দাবি, একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র পশ্চিম তীর এলাকায় আঘাত হানে, যাতে প্রাণহানি ঘটে এবং বহু বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে ইরান সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল, কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতেও হামলা চালিয়েছে।
যুদ্ধের প্রভাবে বহু দেশের গ্যাস সরবরাহেও প্রভাব পড়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে কিছু জাহাজ চলাচল করলেও ইরান জানিয়েছে, এই জলপথ সবার জন্য খোলা নয়। এ বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, কারণ তাঁর মতে কোনো মিত্র দেশ এই পথ খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করেনি।

No comments:
Post a Comment