প্রার্থী বদলে ক্ষোভ আমডাঙায়, শান্ত দেগঙ্গা - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, March 19, 2026

প্রার্থী বদলে ক্ষোভ আমডাঙায়, শান্ত দেগঙ্গা


নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা: দলের কোন্দল আর এলাকায় ভাবমূর্তি নষ্টের কারণে দেগঙ্গা ও আমডাঙা কেন্দ্রে প্রার্থী বদল করল তৃণমূল। প্রার্থী বদলের জেরে দেগঙ্গায় ক্ষোভ প্রকাশ্যে না এলেও মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় বিক্ষোভ হয়েছে আমডাঙায়। একুশেও বিক্ষোভ দেখিয়ে প্রার্থী বদলের ঘটনা ঘটেছিল আমডাঙায়। 


তৃণমূল সূত্রের খবর, গত পাঁচ বছরে আমডাঙা ও দেগঙ্গায় আভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে পৌঁছেছে। এলাকায় মাটি জমি সহ টেন্ডার দখল ছাড়াও সম্পত্তি বৃদ্ধির কারণে খুন মারামারির মত ঘটনাও ঘটেছে বিধানসভা দুটিতে। এসব কারণে বিধানসভা দুটিতে গত বিধানসভা থেকে পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়ে তৃণমূলকে প্রতিদ্বন্দ্বীতার মুখে ফেলেছে। তৃণমূল সূত্রের খবর, দল ছাড়াও পুলিশ, গোয়েন্দা এবং বিশেষ সংস্থা দিয়ে বিধানসভা এলাকায় একাধিকবার সমীক্ষা এবং তথ্য সংগ্রহ করে তৃণমূল নেতৃত্ব। 


তৃণমূল সূত্রের খবর, ২৩ সালে দেগঙ্গায় দিদির দূত কর্মসূচিতে দফায় দফায় মারামারি, বর্তমান বিধায়ক রহিমা মণ্ডলের সাথে সংগঠন ও পঞ্চায়েতের ত্রি স্তরীয় জনপ্রতিনিধিদের একাংশের সাথে সম্পর্ক খারাপ। এমনকি দলের ব্লক সভাপতি তথা বর্তমান প্রার্থী আনিসুর রহমান বিদেশের সাথেও সম্পর্ক মধুর নয়। লোকসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। রহিমার বিরুদ্ধে দেগঙ্গা বিধানসভায় গন ক্ষোভও তৈরি হয়েছে। 


তৃণমূল ও স্থানীয় সূত্রের খবর, রহিমা মণ্ডল এলাকাবাসী না হওয়ার কারণে ভোটাররা নানা সমস্যা জানাতে পারেননি। এলাকার দাবী পৌঁছায়নি বিধানসভাতে। তৃণমূলের বারাসত সাংগঠনিক জেলার এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "রহিমা পরপর দুই বার বিধায়ক হয়ে উন্নয়ন থেকে সংগঠনে ডাহা ফেল করেছে।" তৃণমূল প্রার্থী আনিসুর রহমান বিদেশ বলেন, " দেগঙ্গায় আমি প্রথম ভূমিপুত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছি। আগে যা ঘটেছে তা আর ঘটতে দেব না। স্বাস্থ্য থেকে রাস্তা ও পানিয় জলের সব সমস্যার সমাধান করব আমি।" বিদায়ী বিধায়ক রহিমা মণ্ডলকে ফোনে পাওয়া যায়নি। মেলেনি মেসেজের উত্তর। 


গত পাঁচ বছরে, তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি, বোমা মেরে পঞ্চায়েত প্রধানকে খুন ছাড়াও একাধিকবার মারামারির ঘটনা ঘটেছে আমডাঙা বিধানসভা এলাকায়। ২৩ সালের ১৬ নভেম্বর আমডাঙার কামদেবপুর হাটে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান তৃণমূলের রূপচাঁদ মণ্ডলকে (৪৫) বোমা মেরে ও কুপিয়ে খুন করা হয়। ২০২৪ সালের জুন মাসে খুড়িগাছি এলাকায় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে পঞ্চায়েত সদস্য রাকিবুল ইসলামসহ ৩ জন আহত হন। এছাড়াও বিক্ষিপ্ত মারামারির ঘটনা ঘটেছে। 


তৃণমূল সূত্রের খবর, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে মোর্তাজা হোসেনকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। ব্যাপক বিক্ষোভের জেরে বদল করে রফিকুর রহমানকে প্রার্থী করতে হয়েছিল তৃণমূল নেতৃত্বকে। ২৫,৪৮০ ভোটে জিতেছিলেন তিনি। তৃণমূল সূত্রের খবর, রফিকুর রহমানের নাম ভাঙ্গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা এলাকায় অবাদে সম্পত্তি তৈরি করেছে নামে-বেনামে। তা নিয়ে সংগঠন থেকে জনমানসে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার কাসেম সিদ্দিকিকে প্রার্থী করায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে আমডাঙা অঞ্চলের তৃণমূল কর্মীদের একাংশের মধ্যে। এমন অবস্থায় বিদায়ী বিধায়ককের পাশেই দাঁড়াচ্ছেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মীরা। রফিকুরকে প্রার্থী না করায় ক্ষোভ বাড়ছে প্রার্থী কাসেমের আগের নানা বক্তব্য নিয়ে। 


তৃণমূল নেতা অমল কুমার বিষ্নুর বলেন, 'আমাদের কথা হচ্ছে আমডাঙার কাউকে প্রার্থী করলেও সমস্যা ছিল না। এমন একজনকে দেওয়া হয়েছে যে, তাঁকে পেতে আমাদের ফুরফুরা শরিফে যেতে হবে। বিধায়ক হিসেবে রফিকুর রহমান খুবই সফল। আমাদের ইতিমধ্যেই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে। আমাদের কোনও ধর্মের ব্যবসায়ীকে চাই না। কিছুদিন আগেই তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে নানা অসম্মানজনক কথা বলেছেন। আর আজ সেই প্রার্থী। কী বলব মানুষের কাছে গিয়ে?'


তৃণমূল সূত্রের খবর, আমডাঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী বদলের জন্য আবেদন করবেন তাঁরা। সেই আবেদনে দল সাড়া দিলে ভালো, নয়ত, ইস্তফা দিতে পারেন তৃণমূলের নানা পদাধিকারী নেতা।


 রফিকুর বলেন, "দলকে জিজ্ঞাসা করব যে কোনও দুর্নীতি, অকপকর্মের সঙ্গে যোগ আছে কিনা? আমি তোলাবাজি করি কিনা? অন্য কোনও সামাজিক দুর্নীতি আমার আছে কিনা। দলের নেতৃত্ব দুপুর ২টো অব্দি বলেছে, 'তোমার টিকিট ফাইনাল'। বহিরাগত প্রার্থী নিয়ে দল কতটা সফলতা পাবে সেটা ভবিষ্যৎ বলে দেবে। তবে এটুকু বলতে পারি আমডাঙার মানুষ হিন্দু-মুসলমান কোনও মৌলবীকে সমর্থন করেন না। আমডাঙার মানুষ খুব সচেতন এটুকু বলতে পারি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার নেত্রী। তাঁর নির্দেশ পেলে আমি প্রচারে নামব কিন্তু দিদিকে আমি বলে দেব জেতানোর গ্যারান্টি আমি দিতে পারব না।" তৃণমূলের এই কোন্দলকে হাতিয়ার করে জয়ের স্বপ্ন দেখছে আইএসএফ নেতৃত্ব।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad