নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: ফাল্গুনের শেষেই কালবৈশাখীর রুদ্ররূপ দেখল ডুয়ার্স। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রবল ঝড়ে কার্যত তছনছ হয়ে গেল জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাট ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা। ঝড়ের দাপটে বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিদ্যুৎ পরিষেবাও ব্যাহত। এমনকি কর্তব্যরত অবস্থায় ঝড়ের কবলে আটকে পড়েন বানারহাট থানার আইসি-ও।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নামতেই আকাশ কালো করে শুরু হয় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া। সেই সঙ্গে পড়ে শিল। মুহূর্তের মধ্যে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় ডুয়ার্সের একাধিক জনপদ। সবথেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বানারহাটে। জাতীয় সড়কের ওপর একাধিক জায়গায় বিশালাকায় গাছ উপড়ে পড়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। ঝড়ের তীব্রতা এতটাই ছিল যে বহু কাঁচা বাড়ির চাল উড়ে গেছে। ভেঙে পড়া গাছের তলায় চাপা পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কিছু পাকা বাড়িও।
প্রবল ঝড়ে ছিঁড়ে পড়েছে বিদ্যুতের তার, উপড়ে গেছে খুঁটি। ফলে সন্ধ্যা থেকেই গোটা এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন। ঝড়ের সময় কর্তব্য পালন করতে গিয়ে রাস্তায় গাছ পড়ে যাওয়ায় আইসি বানারহাটের গাড়িও দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে।
বিপর্যয়ের খবর পেয়েই ময়দানে নামে প্রশাসন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী রাস্তা থেকে গাছ সরানোর কাজ শুরু করে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টায় তৎপর হয়। বিদ্যুৎ দফতরও পরিষেবা ফেরাতে কাজ শুরু করেছে, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস আগেই দিয়েছিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। সেই পূর্বাভাস সত্যি করেই ধেয়ে এল কালবৈশাখী। উত্তরের পাশাপাশি বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতেও।



No comments:
Post a Comment