মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতেই সুযোগ! ব্রহ্মোস-সজ্জিত যুদ্ধজাহাজ রপ্তানিতে বড় পদক্ষেপ ভারতের - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, March 31, 2026

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতেই সুযোগ! ব্রহ্মোস-সজ্জিত যুদ্ধজাহাজ রপ্তানিতে বড় পদক্ষেপ ভারতের



প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১১:২৫:০১ : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে ভারত তার প্রতিরক্ষা কৌশলে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষামূলক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্রহ্মোস অতিধ্বনি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসজ্জিত পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধজাহাজ বন্ধু দেশগুলিকে বিক্রির পরিকল্পনা করেছে। এই উদ্যোগ শুধু ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি বাড়াবে না, বরং ভারত মহাসাগর এবং আশেপাশের অঞ্চলে ভারতের প্রভাব আরও শক্তিশালী করবে, যেখানে ইন্দোনেশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশও রয়েছে।



সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভারত এখন নিজেদের তৈরি যুদ্ধজাহাজ আন্তর্জাতিক বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য নির্মিত পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধজাহাজ এবার মিত্র দেশগুলিতে রপ্তানির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা যুদ্ধ ও সামুদ্রিক উত্তেজনার কারণে বহু দেশের নিরাপত্তা চাহিদা দ্রুত বেড়ে গেছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল ও ভারত মহাসাগরে জাহাজের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহের পথ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়ে ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের এই যুদ্ধজাহাজ কম খরচে অত্যন্ত কার্যকর ও শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে।



প্রায় ১,৪৫০ টন ওজনের এই যুদ্ধজাহাজ আকারে ছোট হলেও অত্যন্ত শক্তিশালী। এতে ৮টি ব্রহ্মোস অতিধ্বনি ক্ষেপণাস্ত্র বসানো রয়েছে, যা শত্রুপক্ষের জাহাজ ও স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতে দূর থেকে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম। এর নকশা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে কম খরচে বেশি আক্রমণ ক্ষমতা পাওয়া যায়, ফলে ছোট দেশগুলির নৌবাহিনীও বড় শক্তি অর্জন করতে পারে। আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য এতে ২৪টি স্বল্পপাল্লার উল্লম্ব উৎক্ষেপণ ক্ষেপণাস্ত্র, ৭৬ মিলিমিটার কামান, দ্রুতগতির প্রতিরক্ষা বন্দুক এবং স্বল্প দূরত্বের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, যা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষা দেয়।



এই যুদ্ধজাহাজের গোপনীয় নকশা একে রাডার ও তাপ সনাক্তকরণ থেকে আড়াল থাকতে সাহায্য করে, ফলে হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের মতো সংবেদনশীল এলাকায় অভিযান চালাতে এটি অত্যন্ত কার্যকর। গতির দিক থেকে এটি ঘণ্টায় প্রায় ৩৫ নট পর্যন্ত চলতে পারে এবং প্রায় ২,৮০০ নটিক্যাল মাইল দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম, যা দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের জন্য উপযোগী। কোচিন জাহাজ নির্মাণ সংস্থা প্রায় ৯,৮০৪ কোটি টাকার প্রকল্পে মোট ৬টি জাহাজ তৈরি করছে, যার সরবরাহ ২০২৭ সাল থেকে শুরু হবে। প্রতিটি জাহাজে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন কর্মী থাকবে।



এই যুদ্ধজাহাজগুলির প্রধান কাজ হবে শত্রুপক্ষের জাহাজকে প্রতিহত করা এবং সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি সমুদ্রের তেল ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সম্পদের সুরক্ষাতেও এগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘর্ষ বিশ্বজুড়ে অস্ত্রবাজারেও প্রভাব ফেলেছে। এখন অনেক দেশ বড় ও ব্যয়বহুল যুদ্ধজাহাজের বদলে ছোট, দ্রুতগামী এবং শক্তিশালী বিকল্প খুঁজছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের এই উদ্যোগ শুধু প্রতিরক্ষা চাহিদা পূরণ করবে না, বরং দেশকে একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা রপ্তানিকারক হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করবে।



অর্থাৎ স্পষ্ট যে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘর্ষ বিশ্বে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে, সেখানে ভারত সেই পরিস্থিতিকে কৌশলগত সুযোগে পরিণত করে নিজের প্রতিরক্ষা রপ্তানিকে নতুন দিশা দিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad