প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৯ মার্চ ২০২৬, ১৭:৪০:০১ : ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) সম্প্রতি ইউক্রেনের ৬ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১ জন নাগরিককে গ্রেফতার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মিজোরামে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ এবং বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় এবার ইউক্রেন সরকারের প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে।
ভারতে অবস্থিত ইউক্রেন দূতাবাস জানিয়েছে, ইউক্রেনের ৬ জন নাগরিকের গ্রেফতার নিয়ে যে তথ্য তারা পেয়েছে, বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে যে এই অভিযানের সূত্র নাকি রাশিয়া থেকে পাওয়া তথ্য—এ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। দূতাবাসের সন্দেহ, এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক কারণও থাকতে পারে। তারা এটিকে দুই দেশের বন্ধুত্ব নষ্ট করার চক্রান্ত বলে উল্লেখ করেছে।
ইউক্রেন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং তারা প্রতিদিন রাশিয়ার হামলার মুখোমুখি হচ্ছে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের তারা বিরোধিতা করে। ইউক্রেন ও ভারত আগেও বহুবার একসঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একই মত প্রকাশ করেছে।
ইউক্রেন বলেছে, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ইউক্রেন সফর করেছিলেন, তখন দুই দেশই স্পষ্ট জানিয়েছিল যে কোনো অবস্থাতেই সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করা যায় না এবং এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। ইউক্রেনের মতে, সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত যেকোনো অভিযোগকে শুধুমাত্র পাকা প্রমাণ, স্বচ্ছ তদন্ত এবং দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ভিত্তিতে বিচার করা উচিত।
ইউক্রেন আরও জানিয়েছে, তারা এই বিষয়ে ভারতের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, বিশেষ করে আইনি প্রক্রিয়ায়, যাতে সত্য সামনে আসে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, ভারতের নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করার কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই। বরং তারা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব, বিশ্বাস এবং সহযোগিতা আরও মজবুত করতে চায়।
অন্যদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে, তারা দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।
ইউক্রেন আশা প্রকাশ করেছে যে, ভারতের সংস্থাগুলি আইন অনুযায়ী, স্বচ্ছতা বজায় রেখে এবং কোনো পক্ষপাত ছাড়া তদন্ত করবে এবং গ্রেফতার হওয়া ইউক্রেনের নাগরিকদের অধিকার সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করবে।

No comments:
Post a Comment