প্রেসকার্ড নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১৩:০০:০১ : কারও যদি মদ্যপানের অভ্যাস হয়ে যায়, তাহলে শুধু তার স্বাস্থ্যের ওপর বা আর্থিক অবস্থার ওপরই নয়, পরিবারের ওপরও তার বড় প্রভাব পড়ে। পরিবারের সদস্যরা চান সেই মানুষটি যেন মদ ছেড়ে দেয়, যাতে সংসারে আবার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে। এই আশাতেই অনেকে মন্দিরে গিয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন। এমনই বিশ্বাসঘেরা একটি মন্দির রয়েছে আন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর জেলায়। বিশ্বাস করা হয়, যে কেউ এখানে এলে তার মদ্যপানের অভ্যাস ছুটে যায়।
এই মন্দিরটি বোন্মনহাল মণ্ডলের উন্তাকাল্লু গ্রামে ২০০৫ সালে নির্মিত হয়। স্থানীয়দের মতে, এই মন্দিরের বিশেষত্ব হল এখানে তুলসীর মালা ধারণ করলে মদের নেশা ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হয়। প্রতি একাদশীর দিনে প্রায় দুই হাজার মদাসক্ত ব্যক্তি ভগবানের মালা ধারণ করে দীক্ষা নেন। তাদের মনে সব সময় একটা ভয় কাজ করে যে মালা পরার পর যদি তারা মদ স্পর্শ করেন, তাহলে ঈশ্বরের ক্রোধ নেমে আসবে। এই ভয়ই তাদের আবার নেশার দিকে ফিরতে বাধা দেয়।
৪১ দিন কীভাবে কাটাতে হয়?
মালা ধারণ করা ব্যক্তিকে ৪১ দিনের দীক্ষা নিতে হয়। এই সময়ে তাকে ভোরে স্নান করা, নিয়মিত ভজন ও প্রার্থনা করা, নিরামিষ ও পবিত্র খাবার খাওয়া এবং মাটিতে শোয়ার মতো কঠোর নিয়ম মানতে হয়। এই জীবনযাপনের পরিবর্তন মানুষের জীবনে এক নতুন মোড় এনে দেয়। যারা মালা ধারণ করেছেন, তাদের মতে এই ৪১ দিন সব নিয়ম মেনে চললে ধীরে ধীরে মদ্যপানের ইচ্ছা কমে যায়।
মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের কথায়, এখানে এমন বহু পরিবারের গল্প শোনা যায় যারা মদের কারণে ভেঙে পড়েছিল—সম্পত্তি বিক্রি হয়ে গেছে, জীবন প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। তবে যারা এই অভ্যাস ছেড়ে মালা ধারণ করার পর নতুন জীবন শুরু করেছেন, তারাই এই মন্দিরের জীবন্ত উদাহরণ। শুধু আন্ধ্রপ্রদেশ থেকেই নয়, কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্র থেকেও প্রতি মাসে একাদশীর দিনে বহু ভক্ত এখানে এসে মালা ধারণ করেন। অনেকেই নেশামুক্তি কেন্দ্র ঘুরে অনেক টাকা খরচ করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু স্থানীয়দের দাবি উন্তাকাল্লু গ্রামে ভক্তিভরে ও বিনা খরচে মালা ধারণ করে অনেকে এই অভ্যাস ছেড়ে দিচ্ছেন।
নেশামুক্তির আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি
স্থানীয়দের মতে, অনেকেই ৪১ দিনের দীক্ষা সম্পূর্ণ করার পর আর কখনও মদ্যপান করেননি। এই ঘটনাগুলো ভক্তদের বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে তুলছে। সেই কারণেই ছোট্ট এই গ্রামের পাণ্ডুরঙ্গ স্বামী মন্দির এখন ধীরে ধীরে আধ্যাত্মিক নেশামুক্তি কেন্দ্র হিসেবেও বিশেষ পরিচিতি পাচ্ছে।

No comments:
Post a Comment