প্রেসকার্ড নিউজ ন্যাশনাল ডেস্ক, ০২ মার্চ ২০২৬, ১২:০৫:০১ : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর খবরে বারাণসীর শিয়া সমাজ গভীর শোকের মধ্যে ডুবে গেছে। শহরের বিভিন্ন ইমামবাড়া ও মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। ইমাম-এ-জুমা মাওলানা জাফর হুসাইনী শিয়া সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এক সপ্তাহের শোক পালনের ঘোষণা করেছেন। এই সময় কোনও আনন্দের অনুষ্ঠান হবে না, অনেকেই নিজেদের দোকানপাট ও ব্যবসা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মাওলানা জাফর হুসাইনী জানান, খামেনেই ছিলেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় পথপ্রদর্শক। তাঁর মৃত্যুতে পুরো সম্প্রদায় এক অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে। শোকের অংশ হিসেবে অনেকেই কালো পোশাক পরে মাতম করবেন।
শহরের প্রায় ৩২টি অঞ্জুমন সোমবার একত্রিত হয়ে সম্মিলিত মাতমের আয়োজন করছে। লাট সারাইয়া এলাকার ইমামবাড়ায় এই কর্মসূচি হওয়ার কথা থাকলেও, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রবিবার ভোর থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় খামেনেইকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। দোষীপুরার বাসিন্দারা বলেন, তিনি সারাজীবন ন্যায়, মানবতা এবং নিপীড়িতদের পক্ষে কথা বলেছেন। তাঁর আদর্শ আগামী প্রজন্মের জন্য পথনির্দেশক হয়ে থাকবে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক রয়েছে। দোষীপুরা, কালিমহল, দালমন্ডি-সহ সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমেও নজর রাখা হচ্ছে।
ইফতারের পর বিভিন্ন স্থানে মাজলিসের আয়োজন করা হয়, যেখানে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। শহরের একাধিক ইমামবাড়া ও মসজিদে ধর্মীয় আলোচনা ও বক্তব্যের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করা হয়। অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে তাঁর জীবন ও অবদান নিয়ে কথা বলেন।
শহরের বিশিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা বলেন, খামেনেই কেবল একজন নেতা নন, মানবতার প্রতীক ছিলেন। তাঁর মৃত্যু শুধু একজন ব্যক্তির ক্ষতি নয়, বরং মানবতার উপর আঘাত বলেই মনে করছেন অনেকেই।

No comments:
Post a Comment