ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৬ মার্চ ২০২৬: বিয়ের অনুষ্ঠান মানেই জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া। আর শেষ পাতে মিষ্টি তো থাকতেই হবে। কিন্তু সেই মিষ্টি-ই যদি ডেকে আনে করুণ পরিণতি! হ্যাঁ, এমনই ঘটনা ঘটেছে ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরে। গলায় রসগোল্লা আটকে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। বিয়ের আনন্দ অনুষ্ঠান মুহূর্তেই বদলে গেল শোকের পরিবেশে। মৃতের নাম ললিত সিং, বয়স ৪১ বছর।
জানা যায়, জামশেদপুরের মালিয়ান্তা গ্রামের ললিত সিং নামে এক ব্যক্তি শুক্রবার রাতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। রাত ১টার দিকে, খাওয়ার সময় তিনি একটি রসগোল্লা খেয়ে ফেলেন। দুর্ঘটনাক্রমে এটি তার গলায় আটকে যায়। এরপরেই ললিতের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। সেখানে উপস্থিত লোকেরা রসগোল্লা বের করার চেষ্টা করলেও কোনও লাভ হয়নি। তাঁর অবস্থার অবনতি হতে দেখে তাঁকে তৎক্ষণাৎ এমজিএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। শনিবার ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় পরিবার-সহ গোটা গ্রামে শোকের ছায়া।
চিকিৎসকদের মতে, গলায় খাবার আটকে যাওয়ার কারণে শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে যায়, যার কারণে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
গলায় খাবার আটকে থাকার কারণে মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ডাঃ রোহিত ঝা বলেন, আমাদের গলায় এপিগ্লোটিস নামে একটি ছোট গ্রন্থি থাকে। আমরা যখন খাবার গিলে ফেলি, তখন এটি শ্বাসনালী বন্ধ করে দেয় এবং খাবারকে শুধুমাত্র খাদ্যনালীতেই প্রবেশ করতে দেয়। তবে, কিছু ক্ষেত্রে, এপিগ্লোটিস সঠিকভাবে কাজ করে না। তিনি বলেন, খাওয়ার সময় যদি আপনি জোরে কথা বলেন বা হাসেন, তাহলে এপিগ্লোটিস খুলে যায়। খাদ্যের কণাগুলি তখন শ্বাসনালীতে পড়ে যায়, যা অক্সিজেন সরবরাহকে বাধা দেয়।
কোনও ব্যক্তি যখন অ্যালকোহলের প্রভাবে থাকেন, তখন মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এই গ্রন্থির কার্যকারিতা ধীর হয়ে যায়। চিবানো ছাড়া একবারে বড় খাবার গিলে ফেলার চেষ্টা করলে তা গলায় আটকে যেতে পারে এবং শ্বাস নিতে অসুবিধা হতে পারে। তিনি বলেন, খাওয়ার সময় যতটা সম্ভব কম কথা বলা ভালো। খাবার ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন, ভালো করে চিবিয়ে তারপর গিলে ফেলুন। এছাড়াও অ্যালকোহলের প্রভাব থাকলে ভারী খাবার বা প্রচুর পরিমাণে মিষ্টি না খাওয়াই ভালো।

No comments:
Post a Comment