'দিদির ছোঁয়ায় বাংলা সোনা হয়ে উঠেছে', সাইকেলে চেপে মানুষের দুয়ারে তৃণমূল প্রার্থী - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, March 26, 2026

'দিদির ছোঁয়ায় বাংলা সোনা হয়ে উঠেছে', সাইকেলে চেপে মানুষের দুয়ারে তৃণমূল প্রার্থী


নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন। হাতে আর এক মাসেরও কম সময়। তাই প্রার্থী ঘোষণা হতেই জোরকদমে প্রচার শুরু করে দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। শাসক দলের প্রার্থীদের ভোটপ্রচারও চলছে জোরকদমে। এই আবহে নারায়ণগড় বিধানসভা কেন্দ্রে দেখা গেল প্রচারের ব্যতিক্রমী চিত্র। চিরাচরিত ধারা ভেঙে সাইকেলে চেপে জনসংযোগ সারছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী প্রতিভা মাইতি। গ্রামে গ্রামে ঘুরে সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন তিনি। বয়স প্রায় ষাট ছুঁই ছুঁই হলেও বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি তাঁর উদ্যমে বরং সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে তিনি বেছে নিয়েছেন একেবারে সহজ ও অতিপরিচিত মাধ্যম-সাইকেল।


প্রতিদিন সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন প্রতিভা মাইতি। কখনও কাঁচা রাস্তা, কখনও সরু গ্রামীণ গলি পেরিয়ে তিনি পৌঁছে যাচ্ছেন প্রত্যন্ত এলাকায়। পথে পথে মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, শুনছেন তাঁদের অভাব-অভিযোগ। সেইসঙ্গে ভোটে জোড়াফুল শিবিরকে সমর্থনের আবেদনও জানাচ্ছেন। তাঁর এই সহজ-সরল প্রচার ভঙ্গি ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে এলাকাবাসীর।



উল্লেখ্য, প্রতিভা মাইতি শুধু একজন প্রার্থীই নন, তিনি বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি। সেই হিসেবে তাঁর জন্য গাড়ি ও অন্যান্য সুবিধার ব্যবস্থা থাকলেও, তিনি সেগুলি ব্যবহার না করে সাইকেলকেই সঙ্গী করেছেন। তাঁর কথায়, “আমি গ্রামেরই মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই সাইকেলে চড়ে চলাফেরা করেছি। আজও সেই অভ্যাসই আমাকে মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।”


প্রচারের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নারায়ণগড়বাসীদের বিশেষ বার্তা দেন তৃণমূল প্রার্থী। 

প্রতিভা মাইতি বলেন, "নারায়ণগড়ের সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষকে বলব আপনারা দিদির পাশে থাকুন। দিদির ছোঁয়ায় আজকে বাংলা সোনা হয়ে উঠেছে। প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়ন, জন্ম থেকে মৃত্যু সমস্ত কিছুই কিন্তু আজকে বাংলার মানুষ পরিষেবা পাচ্ছেন। দিদি এখন আমাদের কাছে বাংলার মা।" 


তিনি আরও বলেন, "কখনও যদি এই মায়ের আশীর্বাদ থেকে বঞ্চিত হই, তাহলে আমরা বাংলাবাসী আবার অনেকখানি পিছিয়ে যাব। উনিশের মত আমরা নির্যাতিত হব, ৩৪ বছরের বাম জমানায় ফিরে যাব। সবাইকে বলব দিদির পাশে থাকার জন্য।"


জানা গিয়েছে, শিক্ষকতা জীবনের শুরুতে তিনি একটি নার্সারি স্কুলে পড়াতেন। সেই সময় থেকেই তাঁর নিত্যসঙ্গী সাইকেল। তাই আজও সেই পুরনো অভ্যাস বজায় রেখেই তিনি প্রচারে নেমেছেন। তাঁর মতে, গাড়ি নিয়ে বড় রাস্তায় ঘোরার চেয়ে সাইকেল নিয়ে সরু গলিতে ঢুকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা অনেক বেশি কার্যকর।


তাঁর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় মানুষজনও। অনেকেই বলছেন, এত বড় পদে থেকেও যেভাবে তিনি সাধারণ জীবনযাপনের ধারা বজায় রেখেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ভোটের আগে এমন সরল ও আন্তরিক প্রচার যে মানুষের মনে আলাদা প্রভাব ফেলছে, তা বলাই যায়। আর রাজনীতির ময়দানে মানুষের কাছে পৌঁছতে যে বড় আয়োজন নয় বরং দরকার আন্তরিকতা ও সংযোগ, প্রতিভা মাইতির এই অভিনব প্রচার যেন সেই বার্তাই দিচ্ছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad