কলকাতা, ২০ মার্চ ২০২৬, ২০:৪৫:০১ : পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের বদলি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে আপত্তি জানিয়েছেন এবং প্রকাশ্যে কমিশনের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, রাজ্যে যদি কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তার সম্পূর্ণ দায়ভার নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে। এদিকে এই বদলির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলাও দায়ের হয়েছে।
শুক্রবার কলকাতা উচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় এই বিষয়টির দিকে। আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জানান, নির্বাচন কমিশনের এভাবে রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের অন্য রাজ্যে পাঠানোর অধিকার নেই।
তৃণমূলের আইনজীবী অর্ক নাগ পশ্চিমবঙ্গ থেকে একাধিক সর্বভারতীয় প্রশাসনিক ও পুলিশ পরিষেবার আধিকারিককে সরিয়ে অন্য রাজ্যে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করতে চান।
আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এভাবে আধিকারিকদের অন্যত্র পাঠানো হলে প্রশাসনিক কাজে বিঘ্ন ঘটছে। তিনি কমিশনের এই সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ চেয়ে মামলা দায়েরের অনুমতি চান। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথী সেনের দ্বৈত বেঞ্চ সেই আবেদন মঞ্জুর করে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে এবং জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহেই শুনানি হবে।
রবিবার মধ্যরাত থেকে এই বদলি প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তা চলতে থাকে। মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক, কলকাতা পুলিশের কমিশনার-সহ একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জেলার জেলাশাসকরাও বদলি হয়েছেন।
মোট পঞ্চাশের বেশি শীর্ষ আধিকারিকের বদলি করা হয়েছে এবং সেই সব পদে নতুন নিয়োগও করা হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, যাঁদের সরানো হয়েছে, তাঁদের আপাতত এই রাজ্যে নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত কোনও দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
এছাড়াও, সরিয়ে দেওয়া বহু প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিককে ইতিমধ্যেই অন্য রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। শাসক তৃণমূল কংগ্রেস আগেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এবার বিষয়টি উচ্চ আদালতে পৌঁছেছে।

No comments:
Post a Comment