ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২০ মার্চ ২০২৬: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে ডিজেল ও পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য ন্যাটো দেশগুলোকে দায়ী করেছেন। ট্রাম্প বলেন, এই দেশগুলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করতে চায় না এবং তেলের চড়া দাম নিয়ে অভিযোগ করে। তিনি বলেন, এই লোকগুলো কাপুরুষ এবং আমরা এদের মনে রাখব।
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে বলেন, "আমেরিকা ছাড়া ন্যাটো একটি কাগুজে বাঘ! এরা পারমাণবিক শক্তি-সম্পন্ন ইরানকে থামানোর লড়াইয়ে সামিল হতে চায়নি।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, কিন্তু অনেক দেশই তাদের সমর্থন প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র একাই লড়ছে এবং ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো একে সমর্থন করছে না।
তিনি আরও বলেন, "এখন যেহেতু এই যুদ্ধে সামরিকভাবে জয় করা হয়েছে এবং তাঁদের জন ঝুঁকি অনেক কম, তখন তাঁরা তেলের চড়া দাম নিয়ে অভিযোগ করছে। কিন্তু তাঁরা হরমুজ প্রণালী খুলতে সাহায্য করতে চায় না, যা একটি সাধারণ সামরিক পদক্ষেপ এবং তেলের চড়া দামের একমাত্র কারণ।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তাঁদের পক্ষে এটা করা কতটা সহজ, ঝুঁকি কতটা কম। তিনি ন্যাটো দেশগুলোকে হুমকি দিয়ে বলেন যে, "এই লোকগুলো কাপুরুষ এবং আমরা এদের মনে রাখব।"
এই যুদ্ধের সময়, ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়, যার ফলে জ্বালানি উৎপাদন কমে যায়। এছাড়াও, ইরান প্রাথমিকভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী তেল সংকট দেখা দিয়েছে। তবে, পরে যখন ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে সাহায্যের জন্য সব দেশের কাছে আবেদন করেন, তখন তেহরান জানায় যে, তারা শুধুমাত্র মার্কিন ও ইজরায়েলি জাহাজগুলোকে পার হতে বাধা দেবে।
পাশাপাশি, ট্রাম্পের আবেদনের জবাবে ইউরোপীয় দেশগুলো যুদ্ধে নামতে সরাসরি না করে দিয়েছে। ইংল্যান্ড থেকে ফ্রান্স পর্যন্ত দেশও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, "এটা আমেরিকার যুদ্ধ, ন্যাটোর নয়। এজন্য এই যুদ্ধে আমরা সৈন্য পাঠাব না।" তাঁদের এই বিবৃতিতে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

No comments:
Post a Comment