ভোটের প্রশিক্ষণে এসে রক্তাক্ত ভোটকর্মী! মমতার ছবি নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই বেধড়ক মার - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, March 27, 2026

ভোটের প্রশিক্ষণে এসে রক্তাক্ত ভোটকর্মী! মমতার ছবি নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই বেধড়ক মার

 


নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া: ভোটের প্রশিক্ষণে এসে আক্রান্ত এক ভোটকর্মী। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার রানাঘাটে। আক্রান্তের নাম সৈকত চট্টোপাধ্যায়, তিনি একজন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক। বিডিওর নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ আক্রান্ত ভোটকর্মীর। এমনকি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছাড়ার পর তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে, অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার প্রতিবাদে ভোটকর্মীদের তরফে প্রশিক্ষণ বয়কট করা হয়েছে এদিন। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপিও।


শুক্রবার রানাঘাট মিশন মোড়ের দেবনাথ ইন্সটিটিউট ফর বয়েজে চলছিল ভোটের ট্রেনিং। অভিযোগ, জায়ান্ট স্ক্রিনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি কেন রয়েছে? এই প্রশ্ন করার পরেই ওই ভোটকর্মী তথা রানাঘাটের প্রাথমিক শিক্ষককে বেধড়ক মারধর করা হয়; কিল, চড়, ঘুষি বাদ যায়নি কিছুই। এমনকি তাঁর মাথার পাশে মেরে ফাটিয়ে দেওয়া হয়, রক্তাক্ত হন তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ, আহত ভোট কর্মী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নূন্যতম নিরাপত্তা ছাড়াই ভোট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে? উঠছে প্রশ্ন। 


আক্রান্ত শিক্ষক বলেন, আমি প্রশিক্ষণ নিতে এখানে এসেছি। প্রশিক্ষণের শুরুতে পর্দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছে। এটা নির্বাচনী বিধিভঙ্গ। আমি এর প্রতিবাদ করায় আমাকে মেরেছে। আমাকে বিডিওর সামনে একজন এসে বলে গেল, 'বেশি করলে খুন হয়ে যাবি'।"


ক্ষুব্ধ ভোট কর্মীদের একাংশ ভোট বয়কটের কথাও জানিয়েছেন। তাঁদের কথায়, এমন ঘটনা ঘটলে ভোটে অংশ নেব না বিডিও ও অন্যান্য জড়িতদের শাস্তি না হলে তাঁরা ভোট বয়কটের পথেই হাঁটবেন। সেখানে উপস্থিত এক ভোটকর্মীর কথায়, আমরা নির্বাচনের কাজ করছি। এখন আমরা নির্বাচন কমিশনের আওতায়। অথচ আমাদের মতো ভোটকর্মীদের সঙ্গে একটা বিরোধিতা শুরু করেছে প্রশাসন। বিডিও সাহেবের উপস্থিতিতে আজ যে ঘটনা ঘটল তা নিন্দাজনক।'


অন্যদিকে বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্যের দাবী, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। কোনও আক্রমণের ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, 'আমি সকাল থেকেই ছিলাম। সামনে এসে মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। কেন আমরা ওই শিক্ষককে মারতে যাব? আমাদের কিছু কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়েছে, ওঁনাকে বোঝানো হয়েছে। এরপর প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় ভেতরে ঢুকেই মনে হয় আবার সমস্যা হয়। 


এদিকে এই ঘটনা ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে কমিশন রিপোর্ট তলব করেছে এই ঘটনা নিয়ে। এমনকি কমিশন সূত্রে খবর, হামলার অভিযোগে দোষীদের বিরুদ্ধে পুলিশকে মামলা দায়েরের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।


অন্যদিকে এই ঘটনায় সরব হয়েছে পদ্ম শিবির।‌ স্থানীয় বিজেপি নেতা বলেন, "তৃণমূলের সাজানো প্রশাসনিক সিস্টেম। থানার ওসি, আইসি, এসডিও, বিডিওরা সম্পূর্ণ তৃণমূলের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে, ভোটকর্মীর রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনা আবার এটাই প্রমাণ করল। হাঁসখালির বিডিওর নেতৃত্বে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিঘার মন্দিরের ভিডিও দিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু হয়। ভোটকর্মী প্রতিবাদ করলে বিডিওর সামনেই তৃণমূলের গুণ্ডাবাহিনী এই ঘটনা ঘটায়।" তার বিডিওর প্রশ্রয়েই এই ঘটনা ঘটেছে এবং এই হাঁসখালির বিডিও লোকসভা নির্বাচনে ইভিএম গায়েব বা বিকৃত করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। পাশাপাশি বিডিওকে বরখাস্ত করে গ্ৰেফতারের দাবীও করেন বিজেপি নেতা।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad