প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:১৩:০১ : মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সমঝোতা নিয়ে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত সময়সীমার আগে চুক্তি না হলে ইরানের পুরো সভ্যতা আজ রাতেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। নিজের সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “আজ রাতেই একটি সম্পূর্ণ সভ্যতার অবসান ঘটতে পারে, যা আর কখনও ফিরে আসবে না। আমি এটা চাই না, কিন্তু এমনটা হয়তো ঘটতে পারে। তবে এখন ইরানে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে, যেখানে তুলনামূলকভাবে সংযত ও কম কঠোর মনোভাবের মানুষ প্রাধান্য পাচ্ছেন। কে জানে, হয়তো বড় কোনও ইতিবাচক পরিবর্তনও আসতে পারে। এটি বিশ্বের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হতে পারে। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, দমন-পীড়ন ও হিংসার অবসান ঘটতে পারে। ইরানের জনগণের জন্য শুভকামনা।”
তিনি ইরানকে সমঝোতার জন্য মঙ্গলবার রাত আটটা পর্যন্ত সময় দিয়েছেন (ভারতীয় সময় অনুযায়ী বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটা)। কিন্তু এর আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের উপর হামলা জোরদার করেছে। এদিকে মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি JD Vance জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই এই যুদ্ধের সমাপ্তি হতে পারে। তাঁর মতে, সামরিক লক্ষ্য অনেকটাই পূরণ হয়েছে এবং এখন সংঘর্ষ শেষ হওয়ার পথে। এই যুদ্ধের পরিণতি অনেকটাই ইরানের জনগণের উপর নির্ভর করবে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইরানের সামরিক শক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতাকে অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছে।
এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে ধারাবাহিক হামলার খবর সামনে আসে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের রেল পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, খার্গ দ্বীপে পঞ্চাশটিরও বেশি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এই দ্বীপটি ইরানের বৃহত্তম তেল রপ্তানি কেন্দ্র হওয়ায় এর উপর আক্রমণ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি এবং পারস্য উপসাগরে তার নৌক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে চাপ সৃষ্টির কৌশলও কার্যকর হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের বদলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। যদিও এর একদিন আগেই ইরান জানিয়ে দিয়েছে, হামলা বন্ধ না হলে কোনও ধরনের আলোচনা সম্ভব নয়।

No comments:
Post a Comment