নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি, ১১ এপ্রিল ২০২৬: দোরগোড়ায় রাজ্যে নির্বাচন। জোরকদমে চলছে প্রচার। আর ভোটের প্রচারে গিয়েই ঘটল বড়সড় দুর্ঘটনা। প্রচার সেরে ফেরার পথে তিস্তা নদীতে তলিয়ে গেলেন এক বিজেপি কর্মী। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্স। ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি জেলায়। নিখোঁজ ওই বিজেপি কর্মীর নাম অমল রায়, বয়স ৩৫ বছর। তিনি ময়নাগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের হেলাপাকড়ি সংলগ্ন বৈকুর গৌর গ্রাম এলাকার বাসিন্দা। ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে প্রায় ১৫- ২০ জনের বিজেপি কর্মীর একটি দল হেলাপাকড়ি এলাকা থেকে তিস্তা নদী পার হয়ে ফুলিয়ার চরে ভোট প্রচারে গিয়েছিলেন। প্রচার শেষে সন্ধ্যা নাগাদ কর্মীরা যখন ফিরছিলেন, তখন বাকিরা নৌকায় করে নদী পার হলেও অমল রায় সহ ৩ জন পায়ে হেঁটে নদী পারাপারের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু নদীর মাঝপথে আচমকাই স্রোতের মুখে পড়ে তলিয়ে যান অমল। বাকি দু’জন কোনওরকমে পারে পৌঁছাতে সক্ষম হন। কিন্তু এরপর অমল রায়ের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ এবং সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। নিখোঁজ বিজেপি কর্মীর সন্ধানে নদীতে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানো হয়। এই খবর পেয়ে অনেক রাতে ঘটনাস্থলে আসেন ময়নাগুড়ির তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রামমোহন রায়। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে আসেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা।
নিখোঁজ অমল রায়ের বাবা দীনেশ রায় জানান, ভোট প্রচার থেকে ফেরার সময় ছেলে নদীতে তলিয়ে গেছে, কয়েক ঘন্টা পার হলেও এখনও তাঁর কোনও হদিশ মেলেনি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রামমোহন রায় ও বিজেপি নেতৃত্ব। তিনি বলেন, "আমি প্রচারে ছিলাম। সেই সময় খবর পাই আমার বিধানসভা এলাকার এক যুবক নদীতে তলিয়ে গেছে। এরপরই ঘটনাস্থলে আসি। আমি জানি একজন মা কতটা কষ্টে আছেন। তাই একজন ছেলের মতো সব সময় আমি সেই পরিবারের পাশে থাকব।" তিনি আরও বলেন, "পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল চেষ্টা চালাচ্ছে, কিন্তু রাত পর্যন্ত নিখোঁজের সন্ধান পাওয়া যায়নি।"
বিজেপির দক্ষিণ মণ্ডল সভাপতি অমল রায় সংবাদমাধ্যমে জানান, দলীয় প্রচারে বেরিয়ে তাঁদের একজন সক্রিয় কর্মী নিখোঁজ হয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এবং পরিবারের পাশে আছেন।
শনিবার সকালে অমল রায়ের বাড়িতে আসেন বিজেপি প্রার্থী ডালিম রায় সহ বিজেপির অন্যান্য নেতা-কর্মীরা। ওদিকে নদীতে তল্লাশি চলছে। কিন্তু প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত খোঁজ পাওয়া যায়নি অমল রায়ের।

No comments:
Post a Comment