কলকাতা, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৯:০১ : সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ও তৃণমূলের একসময়ের প্রভাবশালী নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায় আবারও শিরোনামে। শনিবার সকালে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকরা আবার তাঁর নাকতলা এলাকার বাড়িতে পৌঁছান। তাঁদের সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সূত্রের খবর, নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে তাঁকে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তদন্তকারীরা।
প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি কয়েক বছর জেলে থাকার পর জামিন পেয়েছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ও এর আগেই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তবে তিনি জেল থেকে বেরিয়ে এলেই কি সব শেষ? তা নয়, নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত এখনও চলছে—শনিবার সকালের ঘটনাই তার প্রমাণ। একদিকে যেমন নাকতলায় তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, অন্যদিকে একই সময়ে আরেকটি তদন্তকারী দল নিউ টাউনে প্রসন্ন রায়ের কার্যালয়ে অভিযান চালায়। নিয়োগ মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত প্রসন্ন রায়ের কার্যালয়েও দীর্ঘ তল্লাশি শুরু হয়েছে।
.
সূত্রের দাবি, স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে বারবার তলব করা হয়েছিল। জামিন পাওয়ার পর তাঁকে বহুবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হতে বলা হয়। কিন্তু তিনি প্রতিবারই অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে যান। এমনকি তিনি প্রস্তাব দেন, প্রয়োজনে তাঁর সঙ্গে দূরসংযোগের মাধ্যমে কথা বলা যেতে পারে বা তদন্তকারীরা তাঁর বাড়িতে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। তাঁর দাবি, শারীরিকভাবে তিনি দপ্তরে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। তবে তদন্তকারীরা এই যুক্তি মানতে রাজি হননি বলেই মনে করা হচ্ছে। তাই তাঁরা সরাসরি তাঁর বাড়িতে গিয়েই জিজ্ঞাসাবাদের পথ বেছে নিয়েছেন।
শনিবার সকাল প্রায় এগারোটার সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় তদন্তকারী দল নাকতলার বাড়িতে পৌঁছে যায়। বাহিনীর সদস্যরা বাড়ির সমস্ত প্রবেশপথ ঘিরে ফেলে। সূত্রের খবর, তদন্তকারীদের হাতে নতুন কিছু নথি ও তথ্য এসেছে, যেগুলি নিয়ে সরাসরি পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা জরুরি। বিশেষ করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন এবং প্রসন্ন রায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে আরও গভীরে যেতে চাইছে তদন্তকারী সংস্থা। সেই কারণেই প্রসন্ন রায়ের কার্যালয়ে এই অভিযানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচনের ঠিক আগে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর বাড়িতে এই তল্লাশি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। এখন বড় প্রশ্ন, অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আর কতদিন তদন্ত এড়ানো সম্ভব। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন এই দিকেই—নাকতলার বাড়িতে এই তল্লাশি থেকে নতুন কোনও গুরুত্বপূর্ণ মোড় সামনে আসে কি না।
.jpeg.jpeg)
No comments:
Post a Comment