কলকাতা, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:১০:০২: বিজেপি এইবার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে বাইরের এবং ভেতরের নেতাদের বিভাজন কমানোর চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি নির্বাচনী কাজে যুক্ত বাইরের বিজেপি নেতাদেরও জাঁকজমক এড়িয়ে মাটির মানুষের মধ্যে নিঃশব্দ সৈনিকের মতো কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসী নেতাদের কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয়, সে বিষয়ে দল স্পষ্ট ও বিস্তারিত নির্দেশ দিয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে কর্মরত বাইরের বিজেপি নেতাদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই নির্দেশগুলো—
জাঁকজমক এড়িয়ে সাধারণভাবে থাকতে হবে।
স্থানীয় নেতাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে হবে।
যেখানে প্রয়োজন, সেখানে নেপথ্যে থেকে কাজ করতে হবে।
কোনও মোড় বা পাড়ার আড্ডায় দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক আলোচনা করা যাবে না।
এমন পোশাক পরতে হবে যাতে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়া যায়।
ঝকঝকে বা কড়া ইস্ত্রি করা পোশাকের বদলে সাধারণ পোশাক পরতে হবে।
কলকাতায় থাকা বাইরের নেতাদের বিশেষভাবে অচেনা মহিলাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
কেউ যদি জিজ্ঞেস করে এখানে কেন এসেছেন, তাহলে নির্বাচন সংক্রান্ত কাজের কথা না বলে আত্মীয়ের বাড়িতে এসেছেন—এ কথা বলতে হবে।
সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেবেন শুধুমাত্র স্থানীয় নেতারা, বাইরের নেতারা কোনও মন্তব্য করবেন না।
পশ্চিমবঙ্গে দুই ধরনের বাইরের নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে—
প্রথম পর্যায়ে গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে বুথ স্তরে কাজের জন্য এবং শক্তি কেন্দ্রের দায়িত্বে বিভিন্ন রাজ্য থেকে নেতাদের আনা হয়েছিল। এর ফলে প্রায় ৬০ হাজারেরও বেশি বুথ স্তরের দল গঠন করতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি। এই পর্যায়ে ৬টি রাজ্য থেকে সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এবং আরও ৬টি রাজ্যের নেতাদের পশ্চিমবঙ্গের ৫টি অঞ্চলে কাজে লাগানো হয়েছিল।
দ্বিতীয় পর্যায়ে ফেব্রুয়ারি মাসে আরও বাইরের নেতাদের পাঠানো হয়, যারা বিধানসভা স্তরে সম্প্রসারক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে কাজ করছেন। তাঁদের কাজ হলো স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে গ্রাম, পাড়া ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং দলের প্রভাব বিস্তার করা।
পশ্চিমবঙ্গে ৫০০-রও বেশি বাইরের নেতা কাজ করছেন—
প্রায় ৫০০-রও বেশি বাইরের নেতা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে সক্রিয়।
তাঁদের মধ্যে প্রায় ২২৫ জনকে বিধানসভা এলাকায় সম্প্রসারক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরও প্রায় ২২৫ জনকে বিভিন্ন রাজ্য থেকে এনে বিধানসভা এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত করা হয়েছে।
জেলা স্তরে ৩২ জন সমন্বয়কারী নিয়োগ করা হয়েছে, যাঁরা অভিজ্ঞ নেতা।
পুরো পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ৬ জন প্রধান সম্প্রসারক নিয়োগ করা হয়েছে।
পাঁচটি অঞ্চলে ১২ জন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে নির্বাচনের সময় পর্যন্ত দায়িত্বে রাখা হয়েছে।
মূলত তৃণমূল কংগ্রেস প্রায়শই বাইরের ও ভেতরের ইস্যু তুলে ধরে স্থানীয় মানুষের আবেগকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। সেই কারণে বিজেপি এইবার খুব সতর্কভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে, যাতে বাইরের নেতাদের উপস্থিতি কোনওভাবেই স্থানীয় মানুষের মনোভাবের বিরুদ্ধে না যায়।

No comments:
Post a Comment