কলকাতা, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৪০:০১ : বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে খুনের চক্রান্ত করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। গত সপ্তাহে মালদহে একটি সভায় যোগ দিতে গিয়ে তিনি আকাশে একটি ড্রোন উড়তে দেখেন। হেলিকপ্টারে ওঠার ঠিক আগে সেই ড্রোনটি তাঁর সামনে ভাসতে দেখেই তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সোমবার পূর্ব বর্ধমানের এক সভা থেকে তিনি এই নিয়ে বড় অভিযোগ করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ওই ড্রোনটি তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যেই ওড়ানো হয়েছিল। সমুদ্রগড়ের সভায় তিনি বলেন, “আমি যখন মালদহ থেকে আসছিলাম, তখন আমার হেলিকপ্টারের সামনে একটি ড্রোন উড়ছিল। সেটি যদি ধাক্কা মারত, তাহলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। কে ওড়াচ্ছিল এই ড্রোন?”
তিনি আরও বলেন, “বিহারের তিনজনকে ধরা হয়েছে। লক্ষ্য কী? আমার প্রাণ নেওয়া? নিয়ে নিন, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। কিন্তু যতদিন বেঁচে আছি, আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলব। আমার মুখ বন্ধ করা যাবে না।”
মালতিপুরে যাওয়ার সময়ও একই ধরনের ঘটনা ঘটে বলে তিনি জানান। সঙ্গে সঙ্গে তিনি পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন এবং ইঙ্গিত দেন যে এই ঘটনার পেছনে ভারতীয় জনতা পার্টি-র ভূমিকা থাকতে পারে।
অন্যদিকে, তিনি ভারতের নির্বাচন কমিশন-এর সঙ্গে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝাগমের আঁতাতের অভিযোগও তোলেন। তাঁর বক্তব্য, কমিশনের সঙ্গে এই দলগুলির গোপন সমঝোতা থাকতে পারে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকদের অন্য রাজ্যে বদলি করার বিরোধিতা করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ থেকেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় আধিকারিকদের সরানো হয়েছে। তিনি বলেন, প্রায় পাঁচশোর কাছাকাছি উচ্চপদস্থ আধিকারিককে রাজ্য থেকে সরানো হয়েছে, যেখানে অন্য রাজ্যগুলিতে এই সংখ্যা খুবই কম।
কলকাতা পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সুপ্রতিম সরকারকে সরানোর বিষয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত পরিস্থিতি উপেক্ষা করে তাঁকে অন্য রাজ্যে পাঠানো হয়েছে, যা অত্যন্ত অমানবিক।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক বদলি এবং নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল।

No comments:
Post a Comment