কলকাতা, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৫৯:০১ : রাজ্যে বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়, যখন তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে নিজস্ব দল গঠনকারী হুমায়ুন কবীরের একটি কথিত দৃশ্যচিত্র সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই দৃশ্যচিত্রে তাঁকে ভারতীয় জনতা পার্টির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার এবং বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পরিকল্পনার দাবি করতে শোনা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তৃণমূল কংগ্রেস এক সংবাদ সম্মেলনে ওই কথিত দৃশ্যচিত্র প্রকাশ করে এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে কবীরের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায়। দলের অভিযোগ, এটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্বাচনে হারানোর একটি বড় ষড়যন্ত্রের অংশ।
এই কথিত দৃশ্যচিত্রে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণের নামে হুমায়ুন কবীর ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে হাজার কোটি টাকার একটি চুক্তির চেষ্টা করছেন, যেখানে তিনি অগ্রিম হিসেবে দুইশো কোটি টাকা দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, এই দৃশ্যচিত্রের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ওই দৃশ্যচিত্রে কবীরকে বলতে শোনা যায় যে, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতা থেকে সরাতে যেকোনও সীমা পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত এবং তিনি শুভেন্দু অধিকারীসহ বিজেপির একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগে রয়েছেন।
অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীর এই দৃশ্যচিত্রকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে এবং তাঁকে বদনাম করার উদ্দেশ্যেই ছড়ানো হয়েছে। তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তৃণমূলের শীর্ষ নেতা তথা মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম অভিযোগ করেন, কবীর সংখ্যালঘু ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনা রাজ্যের নির্বাচনী ফল প্রভাবিত করার একটি গভীর চক্রান্তের ইঙ্গিত দেয়।
আরেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, যদি এই দৃশ্যচিত্র সত্যি হয়, তবে তা গণরায় প্রভাবিত করার প্রচেষ্টার প্রমাণ। তিনি আরও দাবি করেন, এই বিষয় নিয়ে আসাদউদ্দিন ওয়াইসি-কেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।
তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
জবাবে হুমায়ুন কবীর বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যার পুঁটুলি। তিনি তৃণমূল নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, কোনও বৈঠকের সময় ও স্থান প্রমাণ করতে হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূল সংখ্যালঘু ভোট হারানোর ভয়ে এই ধরনের ভুয়া দৃশ্যচিত্র ছড়াচ্ছে, যা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত

No comments:
Post a Comment