কলকাতা, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২০:০১ : রাজ্যে রাজনীতিতে ভাষা, পরিচয় ও ইতিহাস নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কুচবিহারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যের পর তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র পাল্টা আক্রমণ করেছে। বিষয়টি ‘ইশতেহার’ শব্দকে ঘিরে হলেও, তা এখন বাংলার আত্মপরিচয়কে কেন্দ্র করে বড় রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। এ বার রাজ্যে উন্নয়ন বা কর্মসংস্থান নয়, বরং একটি শব্দই হয়ে উঠেছে নির্বাচনী রাজনীতির কেন্দ্র—‘ইশতেহার’।
বেলেঘাটা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ প্রধানমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মাতৃভাষায় কথা বলতে জানেন না। যদি তিনি ঠিকভাবে কথা বলতে না পারেন, তাহলে তাঁর বক্তব্যের কোনও গুরুত্ব নেই। তিনি বাংলার অপমান করছেন, বাংলাভাষার অপমান করছেন—এটা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
কোচবিহারের সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অভিযোগ করেন, তৃণমূলের ঘোষণাপত্রে বাংলার পরিবর্তে ‘ইশতেহার’ শব্দ ব্যবহারের মধ্যে দিয়ে বাংলার পরিচয়কে বদলানোর চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “তোষণের রাজনীতিতে বাংলার গৌরবময় পরিচয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “১৯০৫ সালে বাংলায় ‘লাল ইশতেহার’ নামে একটি পত্র প্রচারিত হয়েছিল, যার ফলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। আজ তৃণমূল সেই ইতিহাসের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে।”
বিরোধীদের পাল্টা আক্রমণ
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর তৃণমূলের সাংসদ সাগরিকা ঘোষ বলেন, “‘ইশতেহার’ মানে ঘোষণাপত্র—এটি বহু ভাষায় ব্যবহৃত একটি সাধারণ শব্দ। এই নিয়ে রাজনীতি করা মানে অজ্ঞতার পরিচয়।”
একই সুরে প্রাক্তন ক্রিকেটার ও রাজনীতিবিদ কীর্তি আজাদ বলেন, “এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক মন্তব্য, যা বিভ্রান্তি ছড়ায়।”
বিজেপি নেতা সুধাংশু ত্রিবেদী দাবি করেন, ‘ইশতেহার’ শব্দটি কেবল সাধারণ শব্দ নয়, এর পেছনে ইতিহাসের একটি সংবেদনশীল প্রেক্ষাপট রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই শব্দের উৎস ফারসি ভাষায়, এবং অতীতে এটি বিভাজনমূলক প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় বাংলায় প্রবল অস্থিরতা তৈরি হয়। লর্ড কার্জনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্বদেশি আন্দোলন জোরদার হয়। সেই সময় ‘লাল ইশতেহার’ নামে একটি পত্র প্রচারিত হয়েছিল, যা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করেছিল বলে ইতিহাসে উল্লেখ আছে।
ভাষা বনাম রাজনীতি
নির্বাচনের আগে এই বিতর্ক এখন আর শুধু শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ‘ইশতেহার’ নিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের রাজনীতিতে রূপ নিয়েছে। একদিকে বিজেপি এটিকে তোষণের রাজনীতি হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে তৃণমূল এটি বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদার প্রশ্ন হিসেবে সামনে আনছে।

No comments:
Post a Comment