'ইউসিসি-র মানে জানেন?'- কেশিয়াড়ির সভা থেকে বিস্ফোরক মমতা - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, April 11, 2026

'ইউসিসি-র মানে জানেন?'- কেশিয়াড়ির সভা থেকে বিস্ফোরক মমতা


নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর: 'মেজরিটি আজকে আছে, তুমি আজকে বিল পাস করবে। কালকে তুমি ক্ষমতায় থাকবে না, আমরা বাতিল করে দেব। কেশিয়াড়ির জনসভা থেকে এভাবেই কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার নির্বাচনী জনসভা থেকে একাধিক ইস্যুতে বিজেপি ও কেন্দ্রকে তুলোধোনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইসঙ্গে ইউসিসি নিয়ে সরব হন তিনি। 


বিজেপিকে নিশানা করে মমতা এদিন বলেন, "আপনারা জানেন কাল ওদের সংকল্পতে কি বলেছে? তাতে বলেছে ইউসিসি করবে। ইউসিসি-র মানে জানেন? ইউনিফর্ম সিভিল কোড, মানে আপনার কোনও অধিকার থাকবে না। আপনার ইচ্ছে মত আপনার ধর্ম চর্চা, সংস্কৃতি মানার অধিকার থাকবে না। একেক ধর্মের একেক মত ও পথ। কিন্তু এরা বলছে 'না', একটাই পথ হবে। বিজেপি মন্ত্র শিখিয়ে দেবে। বিজেপি যা বলে দেবে সেটাই করতে হবে। সব মানুষের সবকিছু কেড়ে নেবে; আপনার সংস্কৃতি, আপনার শিক্ষা, আপনার ধর্ম, আপনার ঐতিহ্য।" মমতার কটাক্ষ, "ইউনিফর্ম সিভিল কোড মানে একটাই বিজেপি, একটাই নীতি। একটাই বিজেপি, একটাই বিধর্ম। একটাই বিজেপি, সর্বধর্মের সর্বনাশ।"


মমতা কটাক্ষের সুরে বলেন, "এখন যখন সবাই নির্বাচনে ব্যস্ত আছে তখন তোমাকে এই বিলগুলো আনতে হচ্ছে! মেজরিটি আজকে আছে, তুমি আজকে বিল পাস করবে। কালকে তুমি ক্ষমতায় থাকবে না আমরা বাতিল করে দেব। তুমি যা যা স্বেচ্ছাচারী বিল করেছ, সব বাতিল করে দেব আমরা।" 


বিজেপির বিরুদ্ধে ইভিএম মেশিন ও ভোট ট্র্যাপ করার অভিযোগ তোলেন মমতা। তিনি বলেন, "এরা (বিজেপি) থাকলে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও ভয় মুক্ত নির্বাচন হতে পারে না। আমি চাই নিরপেক্ষ ভয় মুক্ত নির্বাচন। বিজেপির মাথা খারাপ হয়ে গেছে। কখন কি বলছে আর কখন কি বকছে।"


তিনি বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকার নোট বন্দি করে আপনাদের লক্ষীর ভাণ্ডার কেড়ে নিয়েছিল। আমি আবারও নিজেই উদ্যোগ নিয়ে চালু করেছি। ওরা তো শুধু লাইনে দাঁড় করায়; আধার কার্ডের লাইন, নোট-বন্দির লাইন, এসআইআরের লাইন, মানুষ হত্যার লাইন। এবার বিজেপি তুমি হবে নিজেই বেলাইন।"


তাঁর কথায়, "নির্বাচন কমিশনারকে সঙ্গে নিয়ে সবাইকে একধার থেকে চেঞ্জ করে যাচ্ছ; কখনও পুলিশ তো কখনও আবার ভোটের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের। সেই সঙ্গে সরকারি গাড়িতে, আবার ফোর্সের গাড়িতে করে টাকা নিয়ে ঘুরছে মানুষকে কিনবে বলে। আপনারা দিল্লীওয়ালাদের কাছে কখনই নিজেদের মাথা নত করবেন না।"



তাঁর প্রতিশ্রুতি, "আগামী দিনে প্রত্যেকটি বাড়িতে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে যাবে। সব ধর্ম, সব বর্ণ, সব জাতির মানুষকে একসাথে নিয়ে আমরা কাজ করব, এটাই আমার অঙ্গীকার। কৃষকদের জন্য ধান এবং আলু সহ ১৫ টি ফসলের জন্য শস্য বীমা চালু করে দিয়েছে আমরা। কৃষক থেকে শ্রমিক, সকলকে নিয়ে আমাদের পথচলা। এই পথ চলাতেই আপনাদের আরও একবার পাশে পেতে চাই।"



পদ্ম শিবিরকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, "বাংলার মানুষের সর্বনাশ করতে আসলে, বাংলার সর্বনাশ করতে আসলে, নিজেদের বিনাশ হয়ে যাবে, জেনে রাখো বিজেপি। যদি বিরসা মুন্ডা ও রঘুনাথ মুর্মু বলে কেউ আদিবাসী ধর্মের থেকে থাকে, তাহলে তোমাদের একদিন বিনাশ ঘটবে।"



মমতার দাবী, এসআইআর একটা বড় স্ক্যাম‌। তিনি বলেন, "এটা এসআইআর নয়। এটা বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার একক প্রচেষ্টা। এসআইআর করে পশ্চিমবাংলায় ৯০ লক্ষেরও বেশি ভোট কেটেছে, তার মধ্যে ৬০ লক্ষ হিন্দু এবং ৩০ লক্ষ মুসলমান।' তিনি বলেন, 'জুন মালিয়া বলছিল শুধু উড়িষ্যা নয়, সব জায়গাতেই আদিবাসীদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে। বাংলা ভাষীদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, বাংলায় কথা বললে তাঁর ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে, আমরা অন্য ভাষায় কথা বললে তাদের সম্মান করি, কিন্তু আপনারা কেন আমার বাংলা ভাষায় কথা বললে অত্যাচার করছেন? জবাব দিন বিজেপি। কেন উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাটে বাঙালিদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে?


তিনি বলেন, 'বিজেপি রাজ্যে মাছ খাওয়া বন্ধ, মাংস খাওয়া বন্ধ। আমরা তো মাছে ভাতে বাঙালি, আমরা কি তা কোনদিন ভুলতে পারি। মিথ্যের বাজার নিয়ে ওরা আসছে যারা, ভোটের সময় তারা প্রতারণা করতে, চক্রান্ত করতে আসছে।'


এদিন মমতার সাবধানী বার্তা, 'সবাইকে একটা কথা বলে রাখি মনে রাখবেন, ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নাম্বার কেউ চাইলে দেবেন না। আপনাকে টাকা পাঠানোর নাম করে আপনার টাকা নিয়ে নেবে আর কিছু কালো টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিয়ে ইডি-সিবিআই দিয়ে রেড করবে পরে। মনে রাখবেন কালো টাকায় হাত দেবেন না, ছোঁবেন না কালোবাজারিদের টাকা।


বিরোধীদের নিশানা করার পাশাপাশি স্মৃতিচারণ করে মমতা বলেন, "কেশিয়াড়িতে আসলেই আমার একটি ছেলের কথা মনে পড়ে, সে হল আমাদের দলের একনিষ্ঠ কর্মী পরেশ। পরেশকে আমরা দলের অন্য কাজে লাগাব।" তিনি আরও বলেন, "আমি যখন কেশপুরে যেতাম, চমকাইতলায় যেতাম, কেশিয়াড়ি ও দাঁতনে আসতাম, তখন রাস্তার পাশে দেখতাম, একজন দাঁড়িয়ে থাকতো। তার মা কাজুবাদাম ভেজে দিতো, সে কৌটায় করে নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতো, তার নাম জগদীশ।"

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad