প্রেসকার্ড নিউজ নিউজ বিনোদন ডেস্ক, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০০:০১ : গরমের দিনে যখন তীব্র রোদ পড়ে এবং আর্দ্রতা বেড়ে যায়, তখন স্বস্তি পেতে আমরা সাধারণ কিছু উপায়ই অবলম্বন করি—যেমন বরফ, আইসক্রিম, ঠান্ডা জল বা ঠান্ডা পানীয়। এছাড়াও ঘর বা কর্মস্থল ঠান্ডা রাখতে পাখা, কুলার, শীতাতপ যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এগুলো শুধুমাত্র কিছু সময়ের জন্য বাইরের দিক থেকে ঠান্ডা অনুভূতি দেয়, শরীরকে ভেতর থেকে শান্ত ও শীতল রাখতে পারে না। শরীর যদি স্বাভাবিকভাবেই ভেতর থেকে ঠান্ডা থাকে, তাহলে তা সুস্থ থাকতে অনেক সাহায্য করে।
আমরা ধীরে ধীরে আমাদের প্রাচীন সংস্কৃতির অনেক ভালো অভ্যাস ভুলে যাচ্ছি। আগে মানুষ শরীরকে স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা রাখতে যে উপায়গুলো ব্যবহার করত, সেগুলো আজও বৈজ্ঞানিকভাবে কার্যকর বলে প্রমাণিত। যোগাচার্য উমঙ্গ ত্যাগী এমন কিছু প্রাচীন পদ্ধতির কথা বলেছেন, যা প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে থেকেই প্রচলিত এবং গরমের সময় শরীর ঠান্ডা রাখতে অত্যন্ত উপকারী।
পাঁচ হাজার বছরের পুরনো উপায়
যোগাচার্য উমঙ্গ ত্যাগীর মতে, হঠযোগ প্রণালীতে বহু আগে থেকেই কয়েকটি বিশেষ প্রাণায়াম বর্ণনা করা হয়েছে, যা শরীরকে ভেতর থেকে শীতল রাখে। প্রাচীন আচার্য স্বাত্মারাম আট প্রকার কুম্ভকের কথা বলেছেন, যার মধ্যে তিনটি বিশেষভাবে শরীরের তাপ কমাতে এবং শীতলতা বাড়াতে সাহায্য করে।
শীতলী প্রাণায়াম
এই প্রক্রিয়ায় জিভকে বাইরে বের করে মাঝখান থেকে মুড়িয়ে নলাকার আকৃতি দিতে হয়। এরপর সেই নলের মাধ্যমে ধীরে ধীরে শ্বাস টেনে নিতে হয়। তারপর জিভ ভেতরে নিয়ে মুখ বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখতে হয় এবং পরে নাক দিয়ে শ্বাস ছাড়তে হয়। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এটি কয়েকবার করা যেতে পারে।
উপকারিতা
এই প্রাণায়াম শরীরের অতিরিক্ত তাপ কমাতে সাহায্য করে এবং জ্বর, অতিরিক্ত তৃষ্ণা ও ক্ষুধার মতো সমস্যাও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক।
শীতকারী প্রাণায়াম
যাদের জিভ নলাকার করা যায় না, তারা এই পদ্ধতি করতে পারেন। এতে মুখ খুলে দাঁতগুলো একসাথে চেপে ধরে ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে হয়। তারপর নাক দিয়ে আস্তে আস্তে শ্বাস ছেড়ে দিতে হয়।
চন্দ্রভেদী প্রাণায়াম
গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে এই পদ্ধতিও খুব কার্যকর। এতে ডান নাসারন্ধ্র আঙুল দিয়ে বন্ধ রেখে বাম দিক দিয়ে শ্বাস নিতে হয়। তারপর বাম দিক বন্ধ করে ডান দিক দিয়ে শ্বাস ছাড়তে হয়। এই প্রক্রিয়া কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করতে হয়।
প্রাণায়ামের উপকারিতা
এই প্রক্রিয়াগুলো শরীরের বাম নাড়িকে সক্রিয় করে, যার ফলে স্নায়ুতন্ত্র সজাগ হয়, শরীরের তাপমাত্রা কমে এবং মন শান্ত হয়। নিয়মিত অনুশীলনে শরীরের অতিরিক্ত গরমভাব কমে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
যাদের জন্য উপযুক্ত নয়
যাদের কফের সমস্যা, নিম্ন রক্তচাপ, হাঁপানি বা মানসিক অবসাদ আছে, তাদের এই প্রাণায়ামগুলো করা উচিত নয়। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রেও আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
প্রতিদিন সকালে এই প্রাণায়ামগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি বা সবগুলো মিলিয়ে অনুশীলন করলে গরমের সময় শরীর ভেতর থেকে ঠান্ডা ও সুস্থ রাখা সম্ভব।

No comments:
Post a Comment