নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা, ০৯ এপ্রিল ২০২৬: প্রয়াত মালদহের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী৷ বঙ্গ রাজনীতিতে ডালু বাবু নামেই খ্যাত ছিলেন তিনি৷ বুধবার রাতে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি৷ মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতারা মৃত্যুতে শোক পালন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর। দিনভর নির্বাচনী প্রচার বন্ধ রাখার ঘোষণা।
প্রয়াত প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসান খান চৌধুরীর মৃত্যুতে বৃহস্পতিবার শোক পালন করলেন ইংরেজবাজারের তৃণমূল প্রার্থী আশীষ কুণ্ডু। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি থাকা সত্ত্বেও এদিন সকালে বাঁশবাড়ি এলাকায় নির্বাচনী প্রচার স্থগিত করেন তৃণমূল প্রার্থী। প্রাক্তন দক্ষিণ মালদা কেন্দ্রের সাংসদ আবু হাসান খান চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন তৃণমূলের প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা। তৃণমূল প্রার্থী জানান, মতাদর্শ ভিন্ন হলেও প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে সারাদিন তাঁদের নির্বাচনী প্রচার বন্ধ থাকবে।
উল্লেখ্য, গণি খান চৌধুরীর সেজ ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী দাদার রাজনৈতিক ঘরানাকেই মালদহে ধরে রেখেছিলেন৷ মালদহে প্রাক্তন বিধায়ক, সাংসদ ও জেলা কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন তিনি। ইউপিএ সরকারের সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও হয়েছিলেন আবু হাসেম খান চৌধুরী৷ শারীরিক অসুস্থতার জন্য গত প্রায় ২০ দিন ধরে কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের চিকিৎসাধীন ছিলেন প্রবীণ এই কংগ্রেস নেতা। ভোটের আবহে তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া মালদহের রাজনৈতিক মহলে। ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মালদহের কালিয়াচকের বিধায়ক ছিলেন আবু হাসেম খান চৌধুরী৷ এর পর ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মালদহ দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস সাংসদ ছিলেন ডালু বাবু৷ তাঁর পুত্র ঈশা খান চৌধুরী মালদহ দক্ষিণের বর্তমান কংগ্রেস সাংসদ।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ওই লোকসভা কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন আবু হাসেম খান চৌধুরীর ছেলেই ঈশা খান চৌধুরী৷ মালদহ দক্ষিণের সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী জানিয়েছেন, বুধবার রাত ১০.১০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তাঁর বাবা৷ আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে কলকাতা থেকে মালদহের কোতওয়ালির বাড়িতে পৌঁছবে আবু হাসেম খান চৌধুরীর মরদেহ৷ সেখানেই তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন পরিবারের সদস্য এবং অন্যান্যরা৷
ঘটনাচক্রে দুই দর্শক আগে বিধানসভা ভোটের আগে প্রয়াত হয়েছিলেন ডালুর দাদা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবিএ গণি খান চৌধুরী। সময়টা ছিল ১৪ এপ্রিল ২০০৬। ডালু সেই সময় কালিয়াচকের বিধায়ক ছিলেন। দাদার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে অবিভক্ত মালদহ লোকসভা থেকে তিনি সাংসদ হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের বিধানসভা ভোটে, কালিয়াচক আসন থেকে জিতে পরিষদীয় রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি হয়েছিল। ২০০১ সালের বিধানসভা ভোটেও ওই কেন্দ্র থেকেই তিনি জয়ী হয়েছিলেন।
ডালুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, "আমার প্রিয় ডালু দা-র প্রয়াণ আমার কাছে এক চরম আঘাত। আমি আমার হৃদয়ের খুব কাছের একজনকে হারালাম। আমি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা জানাই।" ডালুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বৃহস্পতিবার রাজ্যে কংগ্রেসের সব দফতরের দলীয় পতাকা অর্ধ নমিত থাকবে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার শোক বার্তায় জানিয়েছেন।


No comments:
Post a Comment