প্রেসকার্ড নিউজ ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৪৯:০২ : হোয়াইট হাউস স্পষ্ট জানিয়েছে যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনও কথা বলা হয়নি। এই ব্যাখ্যা আসে এমন সময়ে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উপ-প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স-এর বক্তব্যের পর নানা জল্পনা শুরু হয়েছিল। ভ্যান্স বলেছিলেন, মার্কিন সেনাবাহিনীর কাছে এমন অনেক বিকল্প রয়েছে, যা এখনও ব্যবহার করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ইরান যদি নিজের অবস্থান না বদলায়, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই বিকল্পগুলি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
এরপর সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয় যে, হয়তো আমেরিকা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম The Guardian-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু বোমা মোতায়েন করতে পারে। এই প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউস এক বার্তায় জানায়, ভ্যান্সের বক্তব্যে এমন কোনও ইঙ্গিত ছিল না। এই ধরনের দাবিকে তারা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত বলে উল্লেখ করে এবং মানুষকে বিভ্রান্ত না করার আহ্বান জানায়।
বিতর্ক আরও বাড়ে, কারণ এর আগেই ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে ইরান যদি তাঁর শর্ত না মানে, তবে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তিনি এমনও বলেন যে, একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। ট্রাম্প ইরানকে সমঝোতার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেন—ভারতীয় সময় অনুযায়ী বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে কোনও সমঝোতা না হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর উপর হামলা হতে পারে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস জানায়, আমেরিকা ও তার মিত্ররা ইরানের প্রাচীন সভ্যতার কাছ থেকে এমন জবাব পাবে, যা তারা কখনও ভুলতে পারবে না। ইরানের রাষ্ট্রীয় মাধ্যমের দাবি, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর সব ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ ও পরোক্ষ আলোচনা বন্ধ হয়ে গেছে। ইরান আরও জানিয়েছে, তারা এখন উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলির অবকাঠামোর উপর আক্রমণ চালাতে পিছপা হবে না এবং ইতিমধ্যেই উপসাগরে একটি জাহাজ ও সৌদি আরবে মার্কিন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কিছু শিল্প স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে।

No comments:
Post a Comment