রাজ্যের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রীকে ইডির তলব! 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা', বলল শাসক শিবির - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, April 3, 2026

রাজ্যের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রীকে ইডির তলব! 'রাজনৈতিক প্রতিহিংসা', বলল শাসক শিবির


কলকাতা: বিধানসভা ভোটের মুখে ফের সক্রিয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। রাসবিহারী তৃণমূল প্রার্থী দেবাশীষ কুমারের পর এবারে রাজ্যের দুই মন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসু ও রথীন ঘোষকে তলব করেছে ইডি। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দুজনকে ডেকে পাঠানো হয়েছে বলে খবর। সূত্রের খবর, আগামী সোমবার অর্থাৎ ৬ এপ্রিল মন্ত্রী তথা বিধাননগরের তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসুকে এবং ৮ই এপ্রিল রাজ্যের আরেক মন্ত্রী তথা মধ্যমগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী রথীন ঘোষকে তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। 


এখন নির্বাচনের ভরা মরসুম। দুই প্রার্থীর চরম ব্যস্ততা প্রচার ঘিরে। এরই মাঝে দুই হেভিওয়েটকে তলব রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা তৈরি করেছে। নির্বাচনী ব্যস্ততায় দুই মন্ত্রী ইডির তলবে সাড়া দিয়ে স্ব-শরীরে সল্টলেকের দফতরে হাজিরা দেবেন নাকি সময় চেয়ে নেবেন, সেটাই দেখার। 


উল্লেখ্য, জমি দুর্নীতি মামলায় চলতি সপ্তাহে আচমকাই কলকাতা পৌরসভা আর মেয়র পারিষদ তথা রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দেবাশীষ কুমারকে ইডি তলব করেছিল। সোমবার তিনি নথি নিয়ে সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্সে যান। এরপর আবার শুক্রবার তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়। নির্বাচনী প্রচারের ব্যস্ততার মাঝেও এদিন সময় মত হাজিরা দিয়েছেন তিনি। এরপরই শুক্রবার পূরণীয়ক দুর্নীতি মামলায় আরো দুই হেভিওয়েট শাসক নেতা তথা তৃণমূল প্রার্থীকে ডেকে পাঠাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই তলব নিয়ে প্রার্থীদের এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।


রাজ্যজুড়ে ইডির ধারাবাহিক তল্লাশি অভিযান এবং বিভিন্ন স্থান থেকে নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। তবে শাসকদলের তরফে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই পদক্ষেপের এই সময় নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠছে।

তৃণমূলের অভিযোগ, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মুখে প্রতিবারের মতো এবারও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বেছে বেছে তৃণমূল প্রার্থীদের বিভিন্ন মামলায় তলব করে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।


ভোটের মুখে তিন প্রার্থীর বিরুদ্ধেই কেন্দ্রীয় সংস্থার এই সক্রিয়তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবী করেছে শাসক দল। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, 'নির্বাচন কমিশন ও এনআইএ-র পর এবার ইডি-কে নতুন শরিক হিসেবে মাঠে নামিয়েছে বিজেপি। দিল্লীর আবগারি মামলার মতোই এখানেও ভোটের আগে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তবে বাংলার মাটিতে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে বিজেপি সুবিধা করতে পারবে না।'


প্রসঙ্গত, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এর আগেও দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে ইডি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। মন্ত্রীর বাড়ি এবং তাঁর ছেলের রেস্তোরাঁতেও তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে একাধিক প্রভাবশালীর নাম পেয়েছিল ইডি। বেশ কয়েকটি পুরসভাতেও তল্লাশি চালানো হয়। ইডি স্ক্যানারে তৃণমূলের দখলে থাকা বহু পুরসভার বর্তমান এবং প্রাক্তন চেয়ারম্যানদের নাম রয়েছে। সেই সূত্রেই খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের নামও উঠে আসে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad