শিলিগুড়ি, ২১ এপ্রিল: ভোটের সময় বহিরাগতদের দিয়ে শিলিগুড়িতে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। কিন্তু ভোটের দিন কোনও অশান্তি হলে নিজের জীবন দিয়ে তা রুখবেন, কড়া বার্তা শিলিগুড়ি বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেবের। আজ শেষ দিনের প্রচারে মঙ্গলবার সকালে তিনি শিলিগুড়ি পুরসভার ১৯ এবং ২০ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচার চালান। প্রচারের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে কার্যত তুলোধোনা করেন তিনি।
গৌতম দেবের অভিযোগ, বিজেপি বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ধ্বংস করতে চাইছে। ইতিহাস বিকৃত করতে চাইছে। তিনি বলেন, 'এই নির্বাচন পর্বের পুরোটাই লক্ষ্য করছেন মানুষ। বাংলার মানুষ ক্ষুব্ধ, আহত, লজ্জিত হচ্ছেন। বাংলার যে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, কৃষ্টি সেটাকে ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাই রবীন্দ্রসঙ্গীতকে কোনও সময় রবিশঙ্কর, কখনও সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বঙ্কিম দা বলে সম্ভাষণ করা হচ্ছে। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অমোঘ শাশ্বত বাণী 'তোমরা আমাকে রক্ত দাও আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব'- সেটাকে স্বামী বিবেকানন্দর বলে দিচ্ছেন। এই যে বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য-কৃষ্টিকে একটা বহিরাগত আক্রমণ, এটা নিয়ে আমরা চিন্তিত। ব্রিটিশদের মত এরাও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস বিকৃত করে দেওয়া, নতুন ইতিহাস, নতুন সংবিধান লেখার প্রক্রিয়া, নতুন করে বাংলাকে ভেঙে বিহারের সঙ্গে যুক্ত করে দিয়ে একটা উত্তর বিহার অঞ্চল যুক্ত করে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলার মনীষীদের এরা মুছে দিতে চায়। এটা সংঘবদ্ধ আক্রমণ। এরা বহিরাগত বর্গিরা হানা দিয়ে বাংলার গড়িমা সংস্কৃতি মুছে দিয়ে একটা নতুন তাদের ভাবধারার এক ইতিহাস তৈরি করতে চাইছে।'
গৌতম দেবের অভিযোগ, বাইরে থেকে লোক এনে গgভোট লুটের চেষ্টা করছে বিজেপি। এর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের দিকেও আঙুল তুলেছেন তৃণমূল প্রার্থী। তিনি বলেন, 'এরা বাইরে থেকে স্পেশাল ট্রেনে পরিযায়ী শ্রমিক আনার নাম করে বহিরাগতদের নিয়ে আসছে। ছবিও বেরিয়েছে এর। তারা শিলিগুড়ির দিকে আসছে। শিলিগুড়ির হোটেল, লজ, ধর্মশালা সব বুক করেছে। আমরা বারেবারে পুলিশকে, নির্বাচন কমিশনকে অভিযোগ করছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কোনও কাজ করে না। এসআইআর করে ৪২ হাজার নাম বাদ দেওয়ার পরেও তারা নিশ্চিত নয়। তাই বহিরাগতদের এনে ভোট লুট করার চেষ্টা করছে।'
ভোটের দিন অশান্তি হলে তিনি নিজের জীবন দিয়ে তা আটকাবেন বলেও কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এদিন। তৃণমূল প্রার্থী বলেন, 'আমি গৌতম দেব একটা কথা বলে দিই, আমি রাস্তায় থাকব। আমাদের ২৪৫ টা বুথে ৫০ হাজার কর্মীকে নিয়ে রাস্তায় থাকব। একটা জায়গায় যদি বহিরাগত না আসে আমি সবার আগে প্রতিবাদ করব। আমার লাশের ওপর দিয়ে, আমার রক্তের ওপর দিয়ে বিজেপিকে যেতে হবে।'
নাম না করেই বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষকে ভণ্ড বলে আক্রমণ করে তিনি। গৌতম বলেন, 'চরম অসভ্যতা করেছে। বিজেপির এই ভণ্ড ছেলেটি করেছে। পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার-হোডিং ছেঁড়া হয়েছে। এইভাবে যে অত্যাচার করেছে, আমরা সহ্য করেছি। আমরা সংযত থেকেছি। কারণ আমরা জানি মানুষ এই নির্বাচনে এদের এমন জবাব দেবে, যে আর উঠে দাঁড়াতে পারবে না। কিন্তু ভোটের দিন যদি ভোট লুট করতে চায়, সেদিন গণতন্ত্রের উৎসবকে তাঁরা শেষ করে দিতে চায় আমরা করতে দেব না এবং আমার সাথে পঞ্চাশ হাজার কর্মী থাকবে। আমি বিজেপিকে বলে দিতে চাই, আমি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেব। জীবন দেব। রক্তের ওপর দিয়ে নির্বাচন হবে, আমার লাশের ওপর দিয়ে এই বহিরাগতরা যাবে কিন্তু একটা ভোট লুট করতে আমি দেব না। তাঁর জন্য আমার জীবন বাজি রাখব। আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত।'
গৌতম দেব বলেন, 'নির্বাচন কমিশনকে বলতে চাই তোমরা শুধরে যাও। ৫০ হাজার লোক রাস্তায় থাকবে কালকে, তৃণমূলের কর্মীরা। তাঁরা শিলিগুড়ির নাগরিক, শিলিগুড়ির মানুষ। তাঁরা তাঁদের ভোট দিতে চায়। এমনি ৪২ হাজার কেটেছো, তারপর বাইরে থেকে লুটেরা, বর্গিদের নিয়ে এসে তোমরা সেই বুথগুলোকে দখল করবে!' তাঁর কথায়, 'বহিরাগতরা অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে বিহার থেকে অসম থেকে ঢুকিয়ে দিয়েছে। তাঁদের মুখ্যমন্ত্রীরা এসে এখানে এই কাজগুলো করেছেন। আমরা জীবন দেব। ২৩ তারিখ কোনও জায়গায় গন্ডগোল হলে, পুলিশ গুলি চালাক আর ওদের সন্ত্রাসবাহিনীরা অত্যাচার চালাক, মানুষকে নিয়ে প্রতিরোধ এবং প্রতিবাদ হবে। আমরা দেখতে চাই এই হার্মাদরা কত শক্তিশালী।'
ভোটের আগে পরেশ অধিকারী ও তাঁর গ্ৰেফতারি নিয়ে উদয়ন গুহ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এরকম কোনও আশঙ্কা তাঁর মধ্যেও কাজ করছে কিনা, সংবাদমাধ্যম জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'গৌতম দেবকে ছুঁয়ে দেখার ক্ষমতা নেই। ছুঁয়ে দেখাক নির্বাচন কমিশন, ইডি, সিবিআই, আইটি, আমি খোলা ময়দানে চ্যালেঞ্জ দিলাম। তাঁদের ক্ষমতা থাকলে এসে ছুঁয়ে দেখুক। শিলিগুড়ির মানুষ সেটা বুঝবেন। আমি কোনও আশঙ্কা করছি না, গ্রেফতার করার ক্ষমতা নেই। কিন্তু এরা সবকিছু করতে পারে। করলে মানুষও রাস্তায় নেমে যা করার করবে। আমার পঞ্চাশ হাজার কর্মী এবং সাধারণ মানুষ করবে।'

No comments:
Post a Comment