বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধারে কিংবা ছোট্ট টব— সর্বত্রই সহজে চোখে পড়ে নয়নতারা ফুল। ছোট্ট এই ফুল দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনই রয়েছে নানা ভেষজ গুণ। বহু যুগ ধরে আয়ুর্বেদ ও লোকজ চিকিৎসায় নয়নতারা ব্যবহার হয়ে আসছে। অনেকে এই ফুলকে “সদাবাহার” নামেও চেনেন, কারণ প্রায় সারা বছরই এতে ফুল ফুটতে দেখা যায়।
নয়নতারা গাছের পাতা, ফুল ও শিকড়ে রয়েছে নানা উপকারী উপাদান। এতে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা আছে বলে মনে করা হয়। গ্রামবাংলায় ছোটখাটো ক্ষত, চুলকানি কিংবা ত্বকের সমস্যায় অনেকেই পাতার রস ব্যবহার করেন।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বহু মানুষ লোকজ উপায়ে নয়নতারা ফুল বা পাতার রস ব্যবহার করেন। ধারণা করা হয়, এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সাহায্য করতে পারে। তবে শুধুমাত্র ভেষজের উপর নির্ভর না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি।
লোকমুখে প্রচলিত আছে, বিচ্ছু বা কিছু পোকামাকড় কামড়ালে নয়নতারা ফুল বেটে লাগালে জ্বালা ও ব্যথা কিছুটা কমে। যদিও গুরুতর ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানেও নয়নতারা গাছের গুরুত্ব রয়েছে। এই গাছ থেকে পাওয়া কিছু উপাদান নিয়ে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় গবেষণা হয়েছে। বিশেষ করে জটিল রোগের ওষুধ তৈরিতেও এই গাছের নির্যাস ব্যবহারের কথা জানা যায়।
নয়নতারা চাষ করাও খুব সহজ। সামান্য রোদ, অল্প জল আর সাধারণ পরিচর্যাতেই এই গাছ দ্রুত বড় হয়ে ওঠে। তাই অনেকেই বাড়ির সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি ভেষজ গুণের জন্যও এই গাছ লাগান।
তবে মনে রাখতে হবে, যেকোনো ভেষজ গাছের মতো নয়নতারা অতিরিক্ত ব্যবহার করাও ক্ষতিকর হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত খাওয়া বা ব্যবহার করা উচিত নয়।

No comments:
Post a Comment