ভোট-পরবর্তী অশান্তিতে ফের উত্তপ্ত রাজ্য। পূর্বস্থলীর দোলগোবিন্দপুরে দলীয় কার্যালয়ের ভিতর থেকে উদ্ধার হল এক তৃণমূল কর্মীর ঝুলন্ত দেহ। মৃতের নাম অসিত দেবনাথ। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই অসিত ও তাঁর পরিবারের উপর লাগাতার চাপ তৈরি করা হচ্ছিল। বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলেও দাবি পরিবারের।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই অসিত স্থানীয়ভাবে সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ভোট মিটতেই এলাকায় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়ে ওঠে। মৃতের ভাইয়ের দাবি, বৃহস্পতিবার দুপুরেও অসিতকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এরপর বিকেলে দলীয় কার্যালয়ের ভিতর থেকেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের পাশাপাশি আতঙ্কও ছড়িয়েছে।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি কয়েকজন রাজনৈতিকভাবে শিবির বদল করার পর থেকেই এলাকায় অশান্তি বাড়তে শুরু করে। অসিতকে লক্ষ্য করে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল বলেও তাঁদের দাবি। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে।
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ তুলে ঘটনার রং বদলানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি তারা পাল্টা দাবি করেছে, শাসক দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে একই দিনে বরাহনগরেও চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ, বাড়ি দখলের প্রতিবাদ করায় এক বিরোধী নেতার উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগও উঠেছে। ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।
ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের একাধিক জেলায় সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ সামনে আসছে। শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ তুলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় পুলিশ টহল বাড়ানো হয়েছে।
অসিত দেবনাথের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ক্রমাগত রাজনৈতিক সংঘর্ষে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

No comments:
Post a Comment