কলকাতা: সূচি মেনেই শুক্রবার সকালে কলকাতায় এলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণেও থাকবেন তিনি। তার আগে আজ, বিজেপির হবু বিধায়কদের নিয়ে বসবে শাহি-বৈঠক। সেখান থেকেই চূড়ান্ত হবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর নাম।
এদিন সকালে বিএসএফ বিমানে দিল্লী থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। কিছুক্ষণের মধ্যে কলকাতা এসে পৌঁছান তিনি। কলকাতা বিমান বন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা তথা নব নির্বাচিত বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য গলায় উত্তরীয় পরিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। ছিলেন দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিনহা-সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্বও। অমিত শাহকে ঘিরে দলীয় কর্মীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
বাংলা জয়ের পর প্রথম কলকাতায় পা দিলেন অমিত শাহ। এসেই তিনি প্রথমে পৌঁছে যান দক্ষিণেশ্বরে মা ভবতারিনীর মন্দিরে। সঙ্গে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্য। মন্দির চত্বরে তাঁকে ঘিরে ছিল কড়া নিরাপত্তা। সূত্রের খবর, মন্দিরে পুজো দিয়ে তিনি যাবেন নিউ টাউনের হোটেলে। দুপুরে বিশ্ব বাংলা কনভেশন সেন্টারে বিজেপির জয়ী প্রার্থী তথা হবু বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করবেন। এরপর নিউটাউনের ওই হোটেলে রাত্রিযাপন করে শনিবার ব্রিগেডের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
জানা যাচ্ছে, বিধানসভায় বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা বেছে নেওয়ার কাজে পর্যবেক্ষক করা হয়েছে অমিত শাহকে। সেই কাজে তাঁর সহকারী হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিকে। যে কোনও রাজ্যে নির্বাচনের পরে পরিষদীয় দলনেতা বাছাই করার সময় সেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের পাঠান হয়। তাঁরা দলের জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই পরিষদীয় দলনেতার নাম ঘোষণা হয়। এটি বিজেপির পরিষদীয় রীতি।
এদিকে ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে প্রচুর জল্পনা শুরু হয়েছে। বেশিরভাগই মনে করছেন শুভেন্দু অধিকারীকে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখা যাবে। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পলরা। যদিও এই বিষয়ে দলের তরফে এখনও কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়নি। এমতাবস্থায় শুক্র-সন্ধ্যায় সেই জল্পনার অবসান হবে বলেই মনে হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment