পশ্চিমবঙ্গের আউশগ্রামের নবনির্বাচিত বিধায়ক কলিতা মাঝির জীবন এখন একেবারে নতুন পথে এগোচ্ছে। এতদিন যিনি সংসার চালাতে পরিচারিকার কাজ করতেন, এবার সেই তিনিই মানুষের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।
৩৮ বছরের কলিতা মাঝি জানিয়েছেন, এখন আর আগের মতো কয়েকটি বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করা সম্ভব নয়। কারণ এখন তাঁর কাঁধে গোটা এলাকার মানুষের দায়িত্ব। তিনি বলেন, “এবার মানুষের জন্য কাজ করার সময় এসেছে। এতদিন কয়েকটি পরিবারের সেবা করেছি, এখন পুরো এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। তাই আর আগের কাজে ফেরা হবে না। তবে যাঁদের বাড়িতে কাজ করতাম, তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক আগের মতোই থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি গরিব পরিবার থেকে উঠে এসেছি। তাই গরিব মানুষের কষ্ট, সমস্যা আর চাহিদা খুব ভালোভাবে বুঝি। মানুষ আমাকে আশীর্বাদ করেছেন, আমি তাঁদের জন্য কাজ করতে চাই।”
পূর্ব বর্ধমান জেলার গুসকরা এলাকার বাসিন্দা প্লাবিত পাত্র, যাঁর বাড়িতে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন কলিতা, তিনি বলেন, “ওর জয়ে আমরা খুব খুশি। প্রায় দশ বছর আমাদের বাড়িতে কাজ করেছে। এখন ও বিধায়ক হয়েছে, তাই আর প্রতিদিন আসবে না, সেটাই স্বাভাবিক। তবে আমরা বিশ্বাস করি, সাধারণ মানুষের জন্য ও ভালো কাজ করবে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে রান্না, বাসন মাজা ও ঘরের কাজ করে সংসার সামলেছেন কলিতা মাঝি। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসায় এলাকার মানুষ মনে করছেন, তিনি গরিব ও পিছিয়ে পড়া মানুষের সমস্যা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।
কলিতা মাঝির স্বামী সুব্রত পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী ও পাইপের কাজ করেন। তাঁদের এক ছেলে রয়েছে, যে সম্প্রতি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, কলিতা মাঝির অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় এক লক্ষ একষট্টি হাজার টাকা। এছাড়া অ্যাসবেস্টসের ছাউনি দেওয়া একটি বাড়ি রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন লক্ষ টাকা।
সম্প্রতি বিধানসভায় শপথ নেওয়ার পর কলিতা মাঝি বলেন, “সবকিছুই আমার কাছে নতুন। তবে আমি দ্রুত শিখে নেব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং দল আমাকে যে সুযোগ দিয়েছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। মানুষের জন্য কাজ করাই এখন আমার প্রধান লক্ষ্য।”
দুই হাজার একুশ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপি প্রার্থী হিসেবে লড়ে পরাজিত হয়েছিলেন। এরপর আবার আগের মতো গৃহকর্মীর কাজেই ফিরে যেতে হয়েছিল তাঁকে। তবে এবারের নির্বাচনে ভাগ্য বদলায়। তিনি তৃণমূল প্রার্থী শ্যামাপ্রসন্ন লোহারকে বারো হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করে বিধায়ক নির্বাচিত হন।
জয়ের পর কলিতা মাঝি জানিয়েছেন, পিছিয়ে পড়া শ্রেণির উন্নয়ন, ভালো রাস্তা, বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া, যুবকদের কর্মসংস্থান এবং মহিলাদের নিরাপত্তার বিষয়েই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চান। পাশাপাশি গ্রামের মানুষ যাতে চিকিৎসার জন্য দূরে যেতে বাধ্য না হন, সেই কারণে এলাকায় একটি হাসপাতাল গড়ে তোলার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।

No comments:
Post a Comment