প্রোমোটিংয়ের ফাঁদে সর্বস্ব হারানো বৃদ্ধের আর্তি
এ দিনের কর্মসূচিতে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ছবি উঠে আসে ভবানীপুরের এক প্রবীণ নাগরিকের বক্তব্যে। একাশি বছরের প্রবীর মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, প্রোমোটিংয়ের নামে প্রতারণার শিকার হয়েছেন তিনি। পৈতৃক জমি তুলে দেওয়ার পর বহুতল তৈরি হলেও তাঁর ভাগে কোনও ফ্ল্যাট জোটেনি। বরং আরও বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটছে তাঁর।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিজের সমস্যার কথা জানানোর পর কিছুটা আশাবাদী দেখায় ওই প্রবীণকে। তাঁর দাবি, প্রশাসনের তরফে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
চাকরি ফেরানোর দাবি, দুর্নীতির অভিযোগেও সরব অনেকে
শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় চাকরি হারানো বহু শিক্ষকের প্রতিনিধি দলও এ দিন দরবারে হাজির হয়। যোগ্যতার ভিত্তিতে দ্রুত পুনর্বহালের দাবি জানান তাঁরা। পাশাপাশি রাজ্যের কারিগরি শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ বন্ধ ও দুর্নীতির অভিযোগও তোলা হয়। অভিযোগ, স্থায়ী পদ ক্রমশ অস্থায়ী ব্যবস্থার হাতে চলে যাওয়ায় বহু যোগ্য ব্যক্তি বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ ছাড়াও সরকারি চাকরিতে অনাথদের জন্য সংরক্ষিত সুযোগ বাতিলের প্রতিবাদও উঠে আসে। অভিযোগ করা হয়, এর ফলে বহু অনাথ যুবক-যুবতীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ভিড়ে উপচে পড়ল দফতর
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর সাধারণ মানুষের অভিযোগ সরাসরি শুনতেই এই বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। প্রতি সোমবার নির্দিষ্ট সময়ে এই দরবার বসছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এ দিনও সকাল থেকেই বিপুল ভিড় জমে যায় দফতরে। পরিস্থিতি সামলাতে নিরাপত্তারক্ষীদেরও যথেষ্ট বেগ পেতে হয়।
বিভিন্ন চাকরিপ্রার্থী সংগঠন-সহ একাধিক প্রতিনিধি দল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে। সকলের অভিযোগ শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। পরে দুপুরের দিকে প্রশাসনিক কাজে যোগ দিতে সেখান থেকে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

No comments:
Post a Comment