শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারী চন্দ্রনাথ রথ খুনকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া তিন অভিযুক্তকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভিন রাজ্য থেকে ধৃতদের কলকাতায় আনার পর এবার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন অভিযুক্ত রাজ সিংয়ের মা জামবন্তী সিংহ। তাঁর দাবি, সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র করে তাঁর ছেলেকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।
জামবন্তী সিংহের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৯ মে সকালে অযোধ্যার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় পথের ধারে একটি ধাবার সামনে তাঁদের গাড়ি আটকে দেয় পুলিশ। সেখান থেকেই রাজকে আটক করা হয়। পরে জানতে পারেন, তাঁকে বিমানে করে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, রাজ কোনওদিন কলকাতায় যায়নি এবং সেখানে তাঁদের কোনও আত্মীয় বা পরিচিতও নেই।
তিনি আরও দাবি করেন, চন্দ্রনাথ রথ খুনের দিন রাজ উত্তরপ্রদেশের বালিয়াতেই ছিল। পরিবারের বাড়ির নজরদারি ক্যামেরা, স্থানীয় দোকানের ফুটেজ এবং জিমের রেকর্ড খতিয়ে দেখলেই সেই প্রমাণ মিলবে বলে দাবি তাঁর। এমনকি পরের দিন তিনি নিজেই রাজকে সঙ্গে নিয়ে লখনউয়ে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন। সেই অনুষ্ঠানের আলোকচিত্রী, গাড়িচালক-সহ বহু মানুষ রাজকে সেখানে দেখেছেন বলে দাবি পরিবারের।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তরফে বিহারের বক্সার ও উত্তরপ্রদেশ থেকে ধৃত তিনজনকেই ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনা হয়েছে। আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
যদিও পরিবারের দাবি রাজ নির্দোষ, স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অতীতে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধমূলক অভিযোগ ছিল। কয়েক বছর আগে এক প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ী খুনের মামলায় রাজ গ্রেফতার হয়েছিল বলেও দাবি পুলিশের। সেই সময় তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে উত্তরপ্রদেশের স্থানীয় প্রশাসনের অভিযোগ, গ্রেফতারির বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ আগে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও তথ্য দেয়নি।
এই পরিস্থিতিতে জামবন্তী সিংহ গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁর ছেলেকে ফাঁসানো হচ্ছে। তাই রাজ্য পুলিশের বদলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তদন্তভার দেওয়ার দাবিও তুলেছেন তিনি।
চন্দ্রনাথ রথ খুনের পর থেকেই তদন্তে ভিন রাজ্যের দুষ্কৃতী বা সুপারি চক্রের যোগ থাকার আশঙ্কা সামনে এসেছিল। এখন অভিযুক্তের পরিবারের পালটা অভিযোগে তদন্ত আরও জটিল মোড় নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment