ন্যাশনাল ডেস্ক, ১২ মে ২০২৬: দেশবাসীকে পেট্রোল ও ডিজেল সাশ্রয়ের জন্য আবারও আবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।২৪ ঘন্টার মধ্যে এটা দ্বিতীয়বার। এর পাশাপাশি তিনি নাগরিকদের সোনা না কেনা এবং তেল ব্যবহার কমানোর জন্যও অনুরোধ করেছেন। এর আগে হায়দ্রাবাদে তিনি বলেছিলেন যে, নাগরিকদের আবারও কোভিড-১৯ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ মেনে চলা উচিৎ, যার মধ্যে রয়েছে বাড়ি থেকে কাজ করা, অনলাইন ক্লাস এবং ভার্চুয়াল মিটিং। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আরেকটি যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এমনটা হলে ভারত-সহ বিশ্বের অনেক দেশের জন্য এর গুরুতর পরিণতি হবে। তাই, দেশের ওপর যুদ্ধের প্রভাব কমাতে প্রধানমন্ত্রী মোদী জাতিকে তাঁদের অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনার জন্য আবেদন করছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং ব্যাপক হামলার হুমকি দিয়েছেন। ইজরায়েলও ইরানের ওপর হামলার ইঙ্গিত দিয়েছে। এর ফলে পশ্চিম এশিয়ায় আবারও যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমনটা হলে ভারতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হবে এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশের মানুষকে সতর্ক করছেন।
গুজরাটের ভাদোদরাতেও সোমবার জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, "যখনই ভারত যুদ্ধ বা কোনও বড় সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, নাগরিকরা সরকারের অনুরোধে তাঁদের দায়িত্ব পালন করেছেন। আমাদের এখনও ঠিক তাই করতে হবে।" ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ার এই সংকট এই দশকের অন্যতম গুরুতর সংকট। আমরা যেমন কোভিড-১৯ মহামারী কাটিয়ে উঠেছি, তেমন এটিও কাটিয়ে উঠব। তিনি বলেন, ভারতকে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের একটি প্রধান অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে
প্রধানমন্ত্রী এদিন আবারও দেশের নাগরিকদের জ্বালানি খরচ কমাতে এবং গণপরিবহন বা বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি জনগণকে সোনা কেনা স্থগিত রাখার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, আমাদের অবশ্যই আমদানি কমাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয় এমন ব্যক্তিগত কার্যকলাপ এড়াতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী মোদী হায়দ্রাবাদে বলেছিলেন যে, জনগণের তেল ব্যবহার কমানো উচিৎ। ভারত ২০২৫-২৬ সালে ১.৮৫ লক্ষ কোটি টাকার তেল আমদানি করেছিল। প্রতিটি পরিবারে তেল ব্যবহার সামান্য কমালেও ভোজ্য তেল আমদানি হ্রাস পাবে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষিত হবে। তিনি কৃষকদেরও সার ব্যবহার ৫০ শতাংশ কমানোর আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, এতে শস্যের গুণমান উন্নত হবে, মাটির উর্বরতা বাড়বে এবং কৃষকরা সারের ঘাটতির সম্মুখীন হবেন না।

No comments:
Post a Comment