আয়বহির্ভূত সম্পত্তির মামলায় আগাম জামিন না মেলায় নতুন করে রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে উঠে এলেন রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী। তবে শুধু মামলাই নয়, কলকাতা হাইকোর্টে তাঁদের হয়ে সওয়াল করতে সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা ও আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য দাঁড়ানোকে ঘিরে রাজনৈতিক অন্দরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। তৃণমূলের একাংশের কর্মীদের অভিযোগ, দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ এক দম্পতির পাশে দাঁড়িয়ে বিরোধী শিবিরের এই নেতার আদালতে লড়াই করা রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর বার্তা দিচ্ছে।
এই আবহেই সামাজিক মাধ্যমে নাম না করে কড়া আক্রমণ শানান তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, যিনি দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব থেকেছেন, তিনিই আবার গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্তদের হয়ে আদালতে দাঁড়ানোয় দ্বিচারিতার প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়ার নৈতিক অবস্থানও এতে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে, নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের দাবি, আদালতে তিনি একজন আইনজীবী হিসেবেই দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কথায়, মক্কেলের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, আইনি অধিকার রক্ষাই একজন আইনজীবীর প্রধান কর্তব্য। সেই কারণেই তিনি এই মামলায় সওয়াল করেছেন। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তিনি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রের উদাহরণও তুলে ধরেন।
তবে তাতেও বিতর্ক থামেনি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা খোঁচা দিয়ে বলেন, পেশাগত দায়িত্বের আড়ালে সবকিছু ব্যাখ্যা করা যায় না। বিশেষ করে যখন একদিকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়া হয়, আর অন্যদিকে একই ধরনের অভিযোগে অভিযুক্তদের আইনি সহায়তা দেওয়া হয়, তখন রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠবেই। পাশাপাশি তিনি বিজেপি ও সিপিএমের মধ্যে কোনও গোপন সমঝোতা রয়েছে কি না, সেই ইঙ্গিতও দেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাম শিবিরের অন্দরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের একাংশের মতে, এতদিন অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের হয়ে আদালতে সওয়াল করা নিয়ে যেভাবে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, এখন একই পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে গোটা বিষয়টি শুধু আদালতের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজনৈতিক অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে উঠেছে।

No comments:
Post a Comment