কালীঘাট থানার ওসি গৌতম দাসের একটি ছবি ঘিরে রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তাঁর সেই ছবিকে ‘আপত্তিকর’ বলে অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার এই বিষয়ে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে চিঠি পাঠিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন।
জয়প্রকাশ মজুমদারের অভিযোগ, কালীঘাট থানার বর্তমান ওসি নিজেই সামাজিক মাধ্যমে ওই ছবি প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে দেখা যায়, তিনি পুলিশের উর্দি পরে নিজের চেয়ারে বসে আছেন এবং হাতে রয়েছে একটি আধুনিক বন্দুক। ছবির সঙ্গে লেখা ছিল, ‘নতুন দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত’। পরে সেই পোস্টটি মুছে ফেলা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনার বিরুদ্ধে একাধিক যুক্তি তুলে ধরেছেন তৃণমূল নেতা। তাঁর বক্তব্য, কলকাতা পুলিশের সামাজিক মাধ্যম সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী কর্মরত কোনও পুলিশকর্মী উর্দি পরে নিজের ছবি প্রকাশ করতে পারেন না। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী হুমকির ইঙ্গিতবাহী ক্যাপশনসহ অস্ত্রের ছবি প্রকাশ আইনসঙ্গত নয়। ওসির হাতে থাকা অস্ত্রটি তাঁর জন্য নির্দিষ্ট কি না, এবং তিনি সেটি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ পেয়েছেন কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
জয়প্রকাশের মতে, এই ধরনের পোস্ট সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে এবং তা অত্যন্ত অস্বস্তিকর। তিনি পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন কালীঘাট থানার ওসি পদে পরিবর্তন আনে। মার্চ মাসের শেষে অন্য এক আধিকারিককে ওই পদে আনা হলেও, অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে সরিয়ে স্পেশ্যাল শাখা থেকে গৌতম দাসকে নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। নির্বাচনের আবহে এই সামাজিক মাধ্যম পোস্টকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

No comments:
Post a Comment