ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে, আগামী ২১ মে ওই কেন্দ্রে ফের ভোট হবে এবং ২৪ মে গণনা সম্পন্ন করা হবে। এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ।
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি তাঁর ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর সাফল্যের কথা তুলে ধরে বিরোধীদের আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, কোনও শক্তিই এই মডেলকে ভেঙে দিতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, কেন্দ্রের প্রভাবশালী নেতা বা “দিল্লির গডফাদার” যদি সাহস থাকে, তাহলে ফলতা কেন্দ্রে প্রার্থী হয়ে লড়াই করুক।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা অমিত মালভ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করে দাবি করেছেন, এই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর দুর্বলতা প্রমাণ করছে। তাঁর এই মন্তব্যের জবাবেই আরও আক্রমণাত্মক হন অভিষেক।
স্থানীয় তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ -ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটের দিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও অনিয়ম ঠেকানো যায়নি। পাশাপাশি তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটে ফলতা কেন্দ্রে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ইভিএমে কারচুপি, ভোটারদের ভয় দেখানো, বুথ দখল—এমন নানা অভিযোগ সামনে আসে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশন পুরো কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেয়।
এরই মধ্যে এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষের অভিযোগও উঠেছে। কিছু জায়গায় বিরোধী সমর্থকদের উপর হামলা ও হুমকির খবর সামনে এসেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কয়েকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের এবং গ্রেফতারের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে ফলতা কেন্দ্র ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই এখন আরও তীব্র আকার নিচ্ছে, যা রাজ্যের নির্বাচনী আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

No comments:
Post a Comment