ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৩ মে ২০২৬: ছয়টি ফ্ল্যাটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। এই ভয়াবহ ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দিল্লীর বিবেক বিহারে শনিবার রাতে ঘটেছে এই ঘটনা। প্রাথমিক অনুমান এসি শর্ট সার্কিট থেকেই এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে।
জানা গিয়েছে, রাতে হঠাৎ করে ছয়টি ফ্ল্যাটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ভোর ৩:৪৭ মিনিটে দমকল বিভাগ আগুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার ইঞ্জিন পাঠায়। ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকজন আটকা পড়েছিলেন এবং তাঁদের উদ্ধারের জন্য উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। পুলিশ ও দমকল বাহিনীর মতে, আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তল্লাশি অভিযান চলছে। ভবনটিতে আটটি পরিবার বাস করত।
পুলিশ জানিয়েছে যে, ৩রা মে ভোর ৩:৪৮ মিনিটের দিকে বিবেক বিহার থানায় আগুনের খবর আসে। খবর পেয়েই বিবেক বিহার থানার এসএইচও এবং এসিপি-সহ পুলিশ কর্মীরা অবিলম্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দমকল বাহিনী এবং অপরাধ তদন্তকারী দলও বিবেক বিহার ফেজ-১ এর কমপ্লেক্স বি-১৩ তে পৌঁছায়।
পুলিশ জানিয়েছে যে, আবাসনটির দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ অভিযান চলাকালে ভবনটি থেকে ১০-১৫ জনকে উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে দুজন সামান্য আহত হন এবং চিকিৎসার জন্য গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালে ভর্তি হন। ঘটনাস্থলে ১২টি ফায়ার ইঞ্জিনসহ ডিডিএমএ কর্মী, ট্র্যাফিক কর্তা এবং স্থানীয় পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তী তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ চলছে।
এই আগুন কীভাবে লাগল, তার সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে, দিল্লীর বিবেক বিহার এলাকার অগ্নিকাণ্ড প্রসঙ্গে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দোতলার একটি এয়ার কন্ডিশনারে শর্ট সার্কিটের কারণে ভোর ৩:৪৫ নাগাদ আগুন লাগে। দমকল বাহিনী প্রায় ১৫ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় এক শিশু-সহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
দমকল বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন যে, এটি একটি আবাসিক ভবন যেখানে কেবল একটি সিঁড়ি রয়েছে এবং ছাদের দরজাও তালাবদ্ধ ছিল। এই ঘটনায় নয়জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আমরা প্রায় ১৫ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করেছি। এদের মধ্যে একজনের শরীরের ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে এবং তাঁকে জিটিবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় নগর পরিষদ সদস্য পঙ্কজ লুথরা জানান, দ্বিতীয় তলা থেকে পাঁচটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং সেগুলো পুরুষ না নারী, তা শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তৃতীয় তলা থেকে একটি এবং একেবারে উপরের তলাতেও বেশ কয়েকটি মৃতদেহ পাওয়া গেছে।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে শাহদারা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সঞ্জয় গোয়েল বলেন, "এটি একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। আগুন চার তলাতেই ছড়িয়ে পড়ে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তিন-চারজনকে শনাক্ত করা গেছে, বাকিরা অজ্ঞাতপরিচয়। শুধুমাত্র ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেই শনাক্তকরণ সম্ভব। ধারণা করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লেগেছে।"
দিল্লী পুলিশ জানিয়েছে যে, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আগুনে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটগুলোতে আগুন লাগে। উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ অভিযানের সময় ভবনটি থেকে ১০-১৫ জনকে উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে দুজন সামান্য আহত হন এবং চিকিৎসার জন্য তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ডিডিএমএ কর্মী, ট্র্যাফিক কর্তা এবং স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি বারোটি দমকলের গাড়ি ঘটনাস্থলে রয়েছে।

No comments:
Post a Comment