কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী -র একটি মন্তব্য ঘিরে ফের সরগরম দেশের রাজনীতি। সম্প্রতি দলের সংখ্যালঘু উপদেষ্টা কমিটির এক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই মোদি সরকারের পতন হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আগামী দিনে কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র আক্রমণ শানায় ভারতীয় জনতা পার্টি ।
বিজেপির মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া সাংবাদিক বৈঠক করে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে গোটা বিশ্ব নানা অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সংকটের মুখোমুখি। বহু দেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তাঁর দাবি, দেশের মানুষ সরকারের উপর আস্থা রেখেছেন এবং দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পক্ষে রয়েছেন।
গৌরব ভাটিয়া আরও বলেন, রাহুল গান্ধীর এই ধরনের মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অপরিণত রাজনীতির পরিচয় দেয়। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “সরকার কবে পড়বে তা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করে রাহুল গান্ধী যেন জ্যোতিষীর ভূমিকায় নেমেছেন।” পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীদের লক্ষ্য শুধু রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করা, অথচ বিজেপির লক্ষ্য দেশকে আরও শক্তিশালী ও উন্নত করা।
বিজেপি মুখপাত্র আরও এক ধাপ এগিয়ে রাহুল গান্ধীকে “ভারতীয় রাজনীতির ভস্মাসুর” বলেও আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস নেতার রাজনীতি ধ্বংসাত্মক মানসিকতার পরিচয় দেয় এবং তা দেশের স্বার্থের পক্ষে নয়। তিনি দাবি করেন, যখন বিশ্বজুড়ে নানা চ্যালেঞ্জ চলছে, তখন দেশের রাজনৈতিক দলগুলির উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের পাশে দাঁড়ানো।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের দাবি, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা এখন ভয়াবহ আকার নিয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। সেই কারণেই রাহুল গান্ধী এমন মন্তব্য করেছেন বলে দলের নেতাদের বক্তব্য।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও দেশের রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে। একদিকে কংগ্রেস কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষের কথা তুলে ধরছে, অন্যদিকে বিজেপি দাবি করছে যে দেশের অর্থনীতি ও প্রশাসন এখনও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ফলে আগামী দিনে এই ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

No comments:
Post a Comment