হাওড়া: পরনে স্যান্ডো গেঞ্জি আর অন্তর্বাস। মাথা ন্যাড়া। মুখ নীচু করে রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন কুখ্যাত 'ডন' আকাশ সিং। না তিনি একা নন, যে ডনের নামে একসময় বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খেত, তাকে এইভাবে রাস্তায় হাঁটাল হাওড়া সিটি পুলিশ। আর তথাকথিত এই ডনের এমন হাল দেখে অবাক আমজনতা। ডনের এহেন হাল দেখে ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি অনেকের।
এক সময়ে উত্তর হাওড়ায় আকাশ সিংয়ের নাম শুনলে কাঁপতেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেরই অভিযোগ, এমন কোনও অপরাধ নেই যা আকাশ করেননি। ২০টিরও বেশি বোমাবাজি, অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ২০২১ সালে খোদ পুলিশের উপরেই গুলি চালিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ এমনটাই। এছাড়াও এলাকা জুড়ে তোলাবাজি সিন্ডিকেট চালানো এবং একাধিক দুষ্কৃতী হামলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
কিন্তু আকাশের বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি অভিযোগ থাকলেও এতদিন কিছুতেই যেন তার নাগাল মিলছিল না। অবশেষে পালাবদলের পরে চলতি মাসের শুরুর দিকে তাঁকে গ্রেফতার করে হাওড়া সিটি পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মাসের শুরুর দিকেই হাওড়ার এই 'ত্রাস' আকাশ সিং ও তার শাগরেদ সূরজকে গ্রেফতার করেন গোয়েন্দারা। তার পরেই এদিন মাথা মুড়িয়ে, গেঞ্জি আর আন্ডারওয়্যার পরিয়ে আকাশকে ঘোরানো হল উত্তর হাওড়ার রাজপথে।
রবিবার মালিপাঁচঘড়া ও গোলাবাড়ি থানার পুলিশ আকাশকে নিয়ে অপরাধের ঘটনাগুলির পুর্ননির্মাণ বা 'ক্রাইম সিন রিকনস্ট্রাকশন' করতে বের হয়। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে দেখা যায়, আকাশের পরনে শুধুমাত্র স্যান্ডো গেঞ্জি আর হাফ প্যান্ট, পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যে কার্যত মাথা নিচু করে হাঁটছে সে। শুধু তাই নয়, তার চেনা দাড়ি-গোঁফও পরিষ্কার করে কামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
যে যে এলাকায় আকাশ একসময় বোমাবাজি বা গুলি চালিয়েছিল, সেই সব জায়গায় তাকে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কীভাবে অপরাধের ছক কষা হয়েছিল, কারা তাকে সাহায্য করেছিল, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখে পুলিশ।
হাওড়ার পুলিশ অবশ্য একে রুটিন তদন্তের অংশ এবং 'নিরাপত্তা জনিত কারণে' হওয়া পরিস্থিতি বলে দাবী করছে। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বাংলায় বিজেপি সরকার আসার পর সমস্ত অপরাধী ও সমাজবিরোধীদের কাছে এটি একটি অত্যন্ত কড়া এবং স্পষ্ট বার্তা। অপরাধ করে যে আর পার পাওয়া যাবে না, তা বোঝাতেই এই কায়দা।
ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও। অপরাধীদের মনে ভয় ধরাতে এমন দাওয়াইয়েরই প্রয়োজন ছিল, দাবী অনেকেরই।

No comments:
Post a Comment