পশ্চিমবঙ্গে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। রাজ্যে প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠনের পথে এগোতেই মুখ্যমন্ত্রী পদে সর্বসম্মতভাবে নির্বাচিত হলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত বিজেপি পরিষদীয় দলের বৈঠকে তাঁকেই নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাধিক শীর্ষ নেতা।
তবে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে উপমুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে। রাজনৈতিক মহলের জল্পনা, নতুন সরকারে এক নয়, দু’জন উপমুখ্যমন্ত্রীও থাকতে পারেন। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও রাঢ়বঙ্গকে রাজনৈতিকভাবে বেশি গুরুত্ব দিতেই এমন পরিকল্পনা করা হতে পারে বলে আলোচনা চলছে।
এই সম্ভাব্য তালিকায় সবচেয়ে বেশি উঠে আসছে শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ এবং আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালের নাম। শঙ্কর ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গের অন্যতম সক্রিয় মুখ হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে অগ্নিমিত্রা পাল মহিলা সংগঠনের দায়িত্ব সামলে দলের ভিতরে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। বিধানসভাতেও দু’জনেই সরব ভূমিকা পালন করেছেন বলে দলীয় মহলে তাঁদের গুরুত্ব বেড়েছে।
তবে রাজনৈতিক চর্চা যতই বাড়ুক, বাস্তবে ভারতের সংবিধানে ‘উপমুখ্যমন্ত্রী’ নামে কোনও আলাদা সাংবিধানিক পদের উল্লেখ নেই। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত রাজনৈতিক মর্যাদা দেওয়ার একটি উপাধি। প্রশাসনিকভাবে উপমুখ্যমন্ত্রীও একজন সাধারণ মন্ত্রীর মতোই দায়িত্ব পালন করেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর অধীনেই কাজ করেন।
সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। সেখানে উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আলাদা কোনও ক্ষমতা বা বিশেষাধিকার নির্ধারিত নেই। শপথ নেওয়ার সময়ও তাঁকে মন্ত্রী হিসেবেই শপথ নিতে হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত জোট সরকারে শরিক দলকে সন্তুষ্ট রাখা, আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখা অথবা দলের ভিতরের ক্ষমতার সমীকরণ সামলানোর জন্য এই পদ ব্যবহার করা হয়। যদিও বাংলায় এবার বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, তাই জোটের বাধ্যবাধকতা নেই। সেই কারণে যদি উপমুখ্যমন্ত্রী করা হয়, তাহলে তা মূলত রাজনৈতিক বার্তা ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের দিকটি মাথায় রেখেই হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও এখনও পর্যন্ত দল বা সরকারের তরফে উপমুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবুও শপথের আগেই এই জল্পনা ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

No comments:
Post a Comment